মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:২৭ অপরাহ্ন

অবৈধভাবে পাথর তুলে লোভাছড়া নদী ধ্বংস : সিএফটি পাথর সেই ইজারাদারকে দিতে বিএমডির সুপারিশ

অবৈধভাবে পাথর তুলে লোভাছড়া নদী ধ্বংস : সিএফটি পাথর সেই ইজারাদারকে দিতে বিএমডির সুপারিশ

বিশেষ প্রতিনিধি :
অবৈধভাবে দুই তীরের সমতল ভূমি কেটে পাথর উত্তোলনে ধ্বংস হয়েছে সিলেটের কানাইঘাট সীমান্তের লোভাছড়া নদী। যন্ত্র ব্যবহার না করে পাথর তুলতে একই ব্যক্তিকে নদীর একটি অংশ কয়েক দফা ইজারা দেয় খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি)।

সর্বশেষ গত বছর ১৬ মাসের ইজারা দেয়া হয়। কিন্তু এর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরও কয়েক মাস পর্যন্ত অব্যাহত ছিল পাথর উত্তোলন। এক্ষেত্রে অমান্য করা হয় আদালতের নিষেধাজ্ঞাও।

শুধু তাই নয়, নদীর দুই তীর কেটে অবৈধভাবে কয়েক কোটি সিএফটি পাথর উত্তোলন করেছে ওই ইজারাদার। এতে নদীর প্রকৃত আকার হারিয়ে গেছে। পার্শ্ববর্তী গ্রামে বিস্তৃতি হচ্ছে নদীর গতিপথ। পাহাড়ি ঢলের সময় গোটা এলাকা প্লাবিত হয় অস্বাভাবিকভাবে।

চুক্তিভঙ্গ করে ইজারাদারের এ ধরনের অপকর্ম পরিবেশ সংরক্ষণ এবং খনিজসম্পদ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, যা ফৌজদারি অপরাধও- এমন মন্তব্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের। এই আদালতের নির্দেশেই এখন বন্ধ আছে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন।

পাশাপাশি উত্তোলিত এক কোটি সিএফটি পাথর জব্দ করে নিলামের আদেশ দেয়া হয়। কিন্তু এত অপকর্মের পরও রহস্যজনক কারণে ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রভাবশালী ইজারাদার মস্তাক আহমেদ পলাশ। তিনি বিএমডি’র সংশ্লিষ্টদের আশীর্বাদপুষ্ট বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কারণ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে জব্দ করা পাথর ওই বিতর্কিত মস্তাককেই দেয়ার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

লোভাছড়া নদীটির অবস্থান সিলেটের কানাইঘাট সীমান্তে। ওই পাড়ে ভারতের মেঘালয় পাহাড়। বিএমডি’র তালিকায় এই নদীর সীমান্তে একটি পাথরকোয়ারি আছে। বিএমডি দীর্ঘদিন ধরে পলাশকে নির্দিষ্ট পরিমাণ স্থান থেকে পাথর উত্তোলনের জন্য ইজারা দেয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ- বিতর্কিত এই পাথর আহরণকারী পরিবেশ ধ্বংস করে নদীর দুই তীরের বিভিন্ন স্থান থেকে পাথর তোলেন। তাকে কেউ বাধাও দেয় না। সংশ্লিষ্টদের ‘ম্যানেজ’ করেই তিনি এই কাজটি নির্বিঘ্নে করে থাকেন। এ কারণে ছোট লোভাছড়া এখন ভাঙনের কবলে পরে বড় নদীতে পরিণত হয়েছে। বিএমডির সহযোগিতায় বিস্তীর্ণ এলাকা কেটে বড় বড় গর্ত করে পাথর তুলেছেন তিনি।

পরিবেশ অধিদফতরের অভিযোগ, এলাকার সৌন্দর্য ধ্বংস করে ইজারাবহির্ভূত স্থান থেকে সম্প্রতি এক কোটি সিএফটি পাথর উত্তোলন করা হয়েছে। যা এখন জব্দ অবস্থায় আছে। অন্যদিকে বিএমডির বিদায়ী মহাপরিচালক এ বিষয়ে ১৩ আগস্ট এক চিঠিতে বলেন, ‘লোভাছড়া পাথরকোয়ারিতে স্তূপাকারে জমাকৃত পাথর বিভিন্ন ব্যবসায়ী ইজারাদারের কাছ থেকে কিনেছেন।

পরিবেশ অধিদফতর এবং স্থানীয় প্রশাসন পাথর জব্দ ও অপসারণে বাধা দেয়ায় ব্যবসায়ীরা সম্পূর্ণভাবে পরিবহন করতে পারেননি। ৬টি রিট পিটিশনের আদেশে পাথর অপসারণের সুযোগ দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তাই ব্যবসায়ীদের পাথর অপসারণের সুযোগ দেয়া যেতে পারে।’ আরেকটি চিঠিতে ওই মহাপরিচালক জানান, বিধিমালা অনুযায়ী অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার এখতিয়ার বিএমডির ওপর ন্যস্ত।

ইজারাদারের পক্ষে এমন অবস্থান কেন ছিল জানতে চাইলে বিএমডির সদ্যবিদায়ী মহাপরিচালক মো. জাফর উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা কোনো নির্দেশনা দেইনি। এ বিষয়ে কোর্টে রিট হয়। আদেশের পর আমরা মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি লিখি।

জেলা প্রশাসন ম্যাজিস্ট্রেট দিয়েছে নিলাম করার জন্য। নিলামের বিষয়ে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। যখন জানানো হয়েছে তখন এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পরিবেশের ওপর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কোনো এখতিয়ার নেই।’

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা) নির্বাহী প্রধান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সম্পূর্ণ বিষয়টি আমি জানি। তবে আমার কথা স্পষ্ট, সিলেটের জেলা প্রশাসক কেন নিজেকে এত অসহায়বোধ করছেন?


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest