শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৮:২৮ অপরাহ্ন

অনশন ভাঙালেন পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হানের মায়ের

অনশন ভাঙালেন পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হানের মায়ের

সিলেট প্রতিনিধ : সিলেটের বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদের মাকে জুস পান করিয়ে অনশন ভাঙালেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে সালমা বেগমের অনশন ভাঙান তিনি। এ সময় মেয়র আরিফ দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনে রায়হানের পরিবারের পাশে সিলেটবাসী থাকবে বলেও ঘোষণা দেন।মেয়র আরিফ বলেন, ‘রায়হান হত্যার বিচারের দাবিতে সিলেট নগরবাসী আপনাদের সঙ্গে আছেন। আমরাও আপনাদের সঙ্গে আছি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এসআই আকবর ও অন্যান্য আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের জন্য আমরা পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবো।এর আগে বেলা ১১টা থেকে বন্দর বাজার ফাঁড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে আমরণ অনশন শুরু করেন রায়হানের মা সালমা বেগম এবং তার স্বজনরা। অনশনস্থলে তারা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ফেস্টুনও প্রদর্শন করছেন।

এ সময় রায়হানের মা সালমা বেগম বলেন, আমার ছেলের হত্যাকারীকে যতক্ষণ পর্যন্ত গ্রেপ্তার না করা হবে ততক্ষণ অনশন চালিয়ে যাবো। আমার ছেলেকে যেখানে হত্যা করা হয়েছে, প্রয়োজনে আমিও সেখানে মারা যাব। তিনি আরো বলেন, যারা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে তাদেরকে কেন এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না? তাদেরকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিলে এ ঘটনায় জড়িত সবার নাম বেরিয়ে আসবে। এই ফাঁড়ির ইনচার্জ আকবরকেও দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। সব দোষীরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে। এর আগে রায়হানের মৃত্যুর ৮ দিনের মাথায় তার পরিবার ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে ৬ দফা দাবিসহ এসআই আকবরকে গ্রেপ্তারে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়। এ আল্টিমেটামে সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ফের তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। এ কর্মসূচি শনিবার শেষ হয়। এরপরই আজ অনশনে বসেন তিনি।

গত ১১ অক্টোবর (রোববার) ভোরে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হানের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার। ওই ফাঁড়ি ইনচার্জসহ ৪ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ৩ জনকে প্রত্যাহার করা হয়। মামলাটি এখন তদন্ত করছে পিবিআই।সাময়িক বহিস্কৃতরা হচ্ছেন- ফাঁড়ি ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) তৌহিদ মিয়া, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাশ ও হারুনুর রশীদ। আর প্রত্যাহার করা ৩ জন হলেন সহকারী উপ-দর্শক (এএসআই) আশীক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজীব হোসেন।এছাড়া ফাঁড়ি ইনচার্জ সাময়িক বরখাস্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবরকে পালাতে সহায়তা এবং তথ্য গোপনের অভিযোগ গত বুধবার (২০ অক্টোবর) ফাঁড়ির এসআই হাসান উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।এখন পর্যন্ত এসআই আকবর পলাতক রয়েছেন, আর গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে দু’জনকে। আর অন্যরা পুলিশের হেফাজতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে আছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

২৪ ঘন্টা/ ইই/ ম


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest