শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:৪৪ অপরাহ্ন

হতাশ শিক্ষার্থী-অভিভাবক

হতাশ শিক্ষার্থী-অভিভাবক

বিশেষ সংবাদদাতা :
করোনা ভাইরাসের প্রকোপ রোধে দফায় দফায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়াচ্ছে সরকার। এতে হতাশায় ভুগছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। শিক্ষার প্রতি অমনোযোগী হয়ে পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে, পরীক্ষা দিতে না পারায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। দেশে গত ৮ মার্চ করোনা রোগী শনাক্তের পর ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দফায় দফায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কয়েক দফা বাড়িয়ে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়।

সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার এক নির্দেশনায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর ফলে দীর্ঘ সাত মাস ধরে বন্ধ থাকছে স্কুল-কলেজ।

অভিভাবক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ আমার সংবাদকে বলেন, ‘দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিশুর পাঠে অমনোযোগী হয়ে পড়ছে। বিমুখ হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের মনোযোগী করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু সব কিছু খুলে দেয়া হয়েছে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভালোই চলছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও যদি শিফট করে অন্তত সপ্তাহে দুই দিন শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠানো যেতো, তাহলেও পাঠদানের মধ্যে রাখা যেতো। বিমুখ হয়ে পড়া ঠেকানো যেতো।’

এসময় উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পরিবারের সবাই যেখানে বাইরে (কর্মক্ষেত্রে) যাচ্ছে, সেখানে বাসায় থাকা শিক্ষার্থী আসলে কতটা ঝুঁকিমুক্ত?’

গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করার ঘোষণা দেয়া হয়।

এতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী চলমান মহামারি করোনার কারণে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

গত ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে তা স্থগিত রয়েছে। বছর প্রায় শেষ হয়ে আসায় এ পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

গত বুধবার এক অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি স্থগিত থাকা এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা কবে থেকে নেয়া হবে, সেই তারিখ ‘সোম-মঙ্গলবারের মধ্যে’ ঘোষণা করা হবে বলে জানান। মহামারির কারণে এবার পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনী পরীক্ষা নেবে না সরকার।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে উপরের শ্রেণিতে তোলার কথা রয়েছে। তবে চারটি শর্ত দিয়ে আগামী অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ব্রিটিশ কাউন্সিলের পরিচালনায় ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেলের পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি দিয়েছে সরকার। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে কওমি মাদ্রাসার পরীক্ষাগুলো নেয়ারও অনুমতি দেয়া হয়েছে।

এদিকে, অনেক স্কুল-কলেজে শিক্ষকদের উপস্থিত হওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এমন খবরের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম-আল-হোসেন।

এসময় তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস মহামারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের মধ্যে শিক্ষকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। আমরা এ ধরনের কোনো নির্দেশনা জারি করিনি। আমরা নির্দেশনা জারি করেছি স্কুল রি-ওপিনিং প্ল্যান। যখন স্কুল পুনরায় খোলা হবে তখন কোন কোন বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নিয়ে স্কুল খুলবে, সেটার একটা গাইডলাইন তৈরি করেছি।’

সেই নীতিমালার আলোকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরা কীভাবে বিদ্যালয় খুলবে তার পরিকল্পনা সাজাতে বলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সে জন্য বলেছি স্কুল খোলার ১৫ দিন আগে কাজগুলো করতে হবে।

এর বাইরে স্কুলে আসতে হবে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত আমরা দিইনি।’ মূল্যায়ন এবং বার্ষিক পরীক্ষার সম্ভাবনা কমে আসছে কি-না, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা ১৬ মার্চ পর্যন্ত ৩০-৩৫ শতাংশ পাঠ পরিকল্পনা শেষ করতে পেরেছি।

রেডিও, টেলিভিশন, সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার করে পাঠদান কার্যক্রম চালাচ্ছি। আমাদের মেইন টার্গেট হলো, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মিনিমাম একটা লার্নিং কম্পিটেন্সি লাগে, এটা যাতে প্রতিটি শিশু অর্জন করতে পারে। সে ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। পরীক্ষা বা মূল্যায়ন না।’

স্কুলের শিক্ষকই বলতে পারবে বাচ্চারা সঠিকভাবে লার্নিং কম্পিটেন্সি অর্জন করতে পেরেছে কি-না, সেট নিয়ে আমরা কাজ করছি। প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকরা একটা টুলস তৈরি করে পরবর্তী ক্লাসে তুলে দেয়ার জন্য।

অটোপাস দেয়া হবে কি-না, সে প্রশ্নে সচিব বলেন, আমাদের ধীরে ধীরে স্পেস কমে যাচ্ছে। সেটা হতেই পারে, পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। আমরা নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করি।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest