শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ০২:৩০ পূর্বাহ্ন

সারাদেশে শুরু হচ্ছে শুদ্ধি অভিযান

সারাদেশে শুরু হচ্ছে শুদ্ধি অভিযান

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সবুজ সংকেত দিয়েছেন, ফরিদপুরের আদলে সারাদেশে শু’দ্ধি অ’ভিযান করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত প্রায়। যেকোন সময়ে এই শু’দ্ধি অ’ভিযান শুরু হতে যাচ্ছে বলে স’রকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে একসাথে সবগুলো জে’লাতে হবে নাকি ধাপে ধাপে সবগুলো জে’লায় এই অ’ভিযান হবে সে ব্যাপারে কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার করে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পা’চার করা হয়েছে, লু’ণ্ঠন করা হয়েছে এবং জ’নগণকে জি’ম্মি করে সেখানে এক ধরণের অ’পশাসন প্রতিষ্ঠা করেছিল আওয়ামী লীগের কয়েকজন দু’র্বৃত্ত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নে’তৃত্বে ফরিদপুরে অ’ভিযান পরিচালনা করেছে আ’ইনপ্রয়োগকারী সং’স্থা এবং এখন পর্যন্ত সেখানে দুই ডজনের বেশি দু’র্বৃত্তকে গ্রে’প্তার করেছে যারা আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার করতো এবং আওয়ামী লীগের প্র’ভাবশালীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রেখে তাঁরা এলাকায় নিজেদের রা’জত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল।

ফরিদপুরে অ’ভিযান সারাদেশে ব্যা’পকভাবে প্রশংসিত হয়। শেখ হাসিনার সাহস এবং তাঁর নীতি-নিষ্ঠতার এক নতুন উদাহরণ সৃষ্টি হয় এই ফরিদপুর মডেলের মাধ্যমে। আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি নিজেই বলেছেন যে, ফরিদপুরে যেভাবে দু’র্বৃত্ত এবং দু’র্নীতিবাজদের দ’মন করা হয়েছে ঠিক একইভাবে সারাদেশে যারা আওয়ামী লীগের প্র’ভাবশালী নেতাদের ছ’ত্রছায়ায় দু’র্নীতি, অ’নিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতা করছেন তাদের বি’রুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একাধিক সূত্র বলছে যে, এই ব্যাপারে সারাদেশে যারা আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন রকমের অ’পকর্মের সঙ্গে যুক্ত তাদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ৮০০ থেকে ১ হাজার ব্য’ক্তির নাম এই তালিকায় রয়েছে বলেও আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

উল্লেখ্য যে, প্রধানমন্ত্রী দুই বছর আগে তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের একটি তালিকা তৈরি করেছিলেন। এই তালিকাটি প্রণয়নের ক্ষেত্রে একাধিক গো’য়েন্দা সংস্থার সাহায্য নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে এই খসড়া তালিকাটি আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির নে’তৃত্বে একটি কমিটিকে যাচাইবাছাই করতে দেন। তালিকাটি যাচাই বাছাইয়ের পর কিছু নাম বাদ যাওয়ার পর প্রায় সাড়ে ৭ হাজার অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। এই তালিকাটির মধ্যে কারা কারা অ’পরাধী এবং কারা কারা বিভিন্ন অ’পকর্মের স’ঙ্গে জ’ড়িত তাদের ব্যাপারে নতুন করে অনুসন্ধান করা হয়েছে এবং সেখানে দেখা গেছে যে, প্রায় ৭০০ থেকে ১ হাজার ব্য’ক্তি যারা আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অ’পকর্ম, দু’র্নীতি, চাঁ’দাবাজি, দু’র্বৃত্তায়নের সঙ্গে জ’ড়িত এবং এখন এদেরকে আ’ইনের আওতায় আনা হবে।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, কয়েকটি জে’লায় এই ধরনের অ’পরাধীরা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নে’তাদের ছ’ত্রছায়ায় অ’পকর্ম করছেন এবং তাদের বি’রুদ্ধে আগে অ’ভিযান পরিচালনা করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, বগুড়া, পাবনাসহ আরও কয়েকটি জেলায় এরকম তথ্য পাওয়া গেছে যেখানে স্থানীয় নেতা, এম’পি, মেয়র বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্র’ভাব ব’লয়ের মধ্যে দিয়ে দু’র্বৃত্তরা বেড়ে উ’ঠেছে এবং নানারকম অ’পকর্ম করছেন। এই সমস্ত এলাকাগুলোতে যেকোন সময়ে আ’ইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সাঁড়াশি অ’ভিযান শুরু হতে পারে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, আওয়ামী লীগকে পরিশুদ্ধ করার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা তিন ধরণের কৌশল গ্রহণ করেছেন।

প্রথমত, যারা অনুপ্রবেশকারী তাদের তালিকা করে তাদেরকে দল থেকে বে’র করে দেওয়া।

দ্বিতীয়ত, যারা প্রচলিত আ’ইনে অ’পরাধ করছে, তিনি যে-ই হন না কেন আইনকে তাঁর নিজস্ব গতিতে প্রবাহিত করতে দেওয়া এবং যাতে এই সমস্ত দু’র্বৃত্তরা দলীয় ছত্রছায়ায় আছে এই জন্যে পার পেয়ে না যায়।

তৃতীয়ত, ভবি’ষ্যতে যেন এই সমস্ত অনুপ্রবেশকারী দলে ঢু’কতে না পারে সে ব্যাপারে নজরদারি বাড়ানো।

আর এই সমস্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একদিকে যেমন আওয়ামী লীগের নাম ভা’ঙিয়ে কেউ অ’নভিপ্রেত ঘটনা ঘটাতে পারবে না, অন্যদিকে তেমনি সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং দু’র্নীতির ক্ষেত্রে দেশ অনেকখানি এগিয়ে যাবে। যে দু’র্নীতির বি’রুদ্ধে যু’দ্ধ ঘোষণাই ছিল আওয়ামী লীগের গত নির্বাচনের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা।

সূত্রঃ বাংলা ইনসাইডার


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest