বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:৪৫ অপরাহ্ন

বরিশাল ছাত্রলীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুর্ভাবনা

বরিশাল ছাত্রলীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুর্ভাবনা

বরিশাল প্রতিনিধি :
২০১১ সালের ৯ জুলাই থেকে ২০২০ সালের ৯ জুলাই। সময়ের পরিক্রমায় হারিয়ে গেছে দশ বছর। গঠনতন্ত্র বলছে প্রতি বছর কাউন্সিল এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে হবে। তাতে করে বেরিয়ে আসবে নতুন নেতৃত্ব। কিন্তু বিগত দশ বছরেও মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি বরিশাল ছাত্রলীগ। বিপরীতে দুর্নাম, সমালোচনার ভাগিদার আর বিপুল টাকার মালিক বনে গেছেন পদধারীরা। এক সময়ের সম্ভাবনাময়ী ছাত্রলীগ নেতারা এখন ঘর সংসার করে পুরো দস্তুর সংসারী।

বরিশাল জেলা ও মহানগর কমিটি সর্বশেষ ২০১১ সালে অনুমোদন পেয়েছিল শর্তসাপেক্ষে। নির্ধারিত সময়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার কথা ছিল। পাশাপাশি সঠিক সময়ে কাউন্সিল দিয়ে নতুনদের হাতে নেতৃত্ব দেওয়ারও তাগিদ ছিল। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। ফলে তৃণমূল ছাত্রলীগের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১১ সালের ৯ জুলাই হেমায়েত উদ্দিন সুমন সেরনিয়াবাতকে সভাপতি, আবদুর রাজ্জাককে সাধারণ সম্পাদক এবং সৈয়দ শামসুদ্দোহা আবিদকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৩ সদস্যের জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়। একই সময়ে মো. জসিম উদ্দিনকে সভাপতি, অসীম দেওয়ানকে সাধারণ সম্পাদক করে বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। উভয় কমিটির নেতৃবৃন্দের প্রতি নির্দেশনা ছিল গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার।

এর মধ্যে জেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ ২০১৪ সালে ১০৯ সদস্যের কমিটি গঠন করতে পারলেও মহানগর ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ তা পারেননি। তাছাড়া নারী কেলেংকারিতে জড়িয়ে সাধারণ সম্পাদক অসীম দেওয়ান ছেড়েছেন রাজনীতির মাঠ, কোণঠাসা হয়ে আছেন সভাপতি জসিম উদ্দিন। অভিযোগ রয়েছে, সার্টিফিকেট জালিয়াতি করে ছাত্রলীগ নেতা হয়ে আর এগোতে পারেননি তিনি। উল্টো পদ পাওয়ার পরে বিভিন্ন দপ্তরে টেন্ডারবাজি শুরু করে বির্তকে জড়ান। তাছাড়া মূল দলের নেতাদের পরস্পর বিরোধিতার যাতাকলে পড়ে তিনি রাজনীতির মাঠে নিষ্ক্রিয়। এমনকি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজিও নন তিনি।

মো: জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, বরিশালে বিএম কলেজে কর্মচারীকে কুপিয়ে জখম, হাতেম আলী কলেজর প্রধান সহকারীকে কক্ষে ঢুকে চাঁদা না পেয়ে মারধরের ঘটনায় যেসব ছাত্রলীগ নেতার নাম আসছে তারা ছাত্রলীগের সঙ্গে আদৌ জড়িত নন। কেউ নিজে এসে ছাত্রলীগের পরিচয় দিলেইতো তিনি ছাত্রলীগ হয়ে যাবেন না। কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করেননি।

সাংগঠনিকভাবে সফল না হলেও জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের যে সমস্ত নেতারা আলোচনায় ছিলেন তারা একে একে বিয়ে করে ছাড়ছেন সংগঠন। বিবাহিত কেউ ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসতে পারবে না এমন নিয়ম থাকলেও তার তোয়াক্কা নেই। তবে ছাত্রলীগের নেতারা মনে করেন, সংগঠনটি অনেক বড়। ফলে নেতৃত্বে ঘাটতি আসবে না।

জানা গেছে, সেপ্টেম্বরে বেশ ঘটা করে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আতিকুল্লাহ মুনিম ও সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত বিয়ে করেছেন। অথচ তারাই ছিলেন পরবর্তী নেতৃত্বের শীর্ষে। বিয়ের তালিকায় রয়েছে আরও ডজনখানেক পদধারী ছাত্রলীগ নেতার নামও। শুধু সহ-সভাপতি নন, কয়েকদিন আগে সভাপতি হেমায়েত উদ্দিন সুমন সেরনিয়াবাত ধুমধাম করে সেরেছেন বিয়ের কাজ। আর সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক একাধিক সন্তানের জনক।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হেমায়েত উদ্দিন সুমন সেরনিয়াবাত বলেন, বিবাহিত কেউ ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসতে পারে না। যারা বর্তমানে বিয়ে করছেন তারা দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সামনে তারা যুবলীগ-স্বেচ্ছাসেবকলীগ সহ আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনগুলোর সঙ্গে যুক্ত হবেন।

সুমন বলেন, ছাত্রলীগে অনেক নেতা রয়েছেন যারা ত্যাগী, কিন্তু আলোচনায় নেই। তাদের মধ্যে থেকে নতুন কমিটি গঠন হবে।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest