শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১, ১১:১৫ অপরাহ্ন

পিকে হালদারের ৭ সহযোগীকে দুদকে তলব

পিকে হালদারের ৭ সহযোগীকে দুদকে তলব

রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের (পিকে হালদার) দুর্নীতি সংশ্লিষ্টতায় পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান, পরিচালকসহ সাত সহযোগীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো পৃথক নোটিশে তাদেরকে আগামী ১১,১২ ও ১৩ জানুয়ারি দুদক কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

দুদকের উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান সই করা পৃথক নোটিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।নোটিশ অনুযায়ী, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান মতিউর রহমান ও সাবেক পরিচালক আরেফিন সামসুল আলামিনকে ১১ জানুয়ারি হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। ন্যাচার এন্টারপ্রাইজ ও এমটিবি মেরিন লিমিটেডের মালিক নওশের উল ইসলাম ও তার স্ত্রী মমতাজ বেগম এবং এমটিবি মেরিন লিমিটেডের মালিক সনজিব কুমার হাওলাদারকে ১২ জানুয়ারি; এমটিবি মেরিন লিমিটেডের অপর মালিক বাসুদেব ব্যার্নাজী ও ন্যাচার এন্টারপ্রাইজের মালিক পাপিয়া ব্যার্নাজীকে ১৩ জানুয়ারি সকাল ১০ টায় দুদকে হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

এর আগে একই অভিযোগে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের পরিচালক ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নিজামুল আহসান, পরিচালক মোঃ সিরাজুল ইসলাম মোল্লা ও মোহাম্মদ ইউসুফ ইসমাইলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

অভিযোগ রয়েছে, পিকে হালদার ওই প্রতিষ্ঠানসহ পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানির (বিআইএফসি) দায়িত্ব পালন করে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করেছেন। ক্যাসিনো অভিযানের ধারাবাহিকতায় তার বিরুদ্ধে এরইমধ‌্যে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। তবে মামলা করার আগেই লাপাত্তা পি কে হালদার। ওই মামলার এজাহারে প্রশান্ত কুমার হালদার ও তার স্বার্থ–সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক ১ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকার লেনদেনের বিষয়ে তথ্য ছিল।

দুদক বলছে, কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা থাকা অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, কর ফাঁকির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থের মালিক হয়েছেন প্রশান্ত কুমার হালদার।

এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বেশ আগেই অনুসন্ধান শুরু করেছিল দুদক। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুদক বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করার জন্য অনুরোধ করে। যেখানে অবাক করা অনিয়ম ও জালিয়াতির বিভিন্ন চিত্র উঠে আসে।

ক্যাসিনোবিরোধী শুদ্ধি অভিযানের পরপরই প্রশান্ত কুমার হালদারের নাম উঠে আসে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত বছরের ১৪ নভেম্বর হাজির হতে নোটিশ দিয়েছিল সংস্থাটি। তার আগে ৩ অক্টোবর তার বিদেশযাত্রায়ও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি ঠিকই দেশ থেকে পালিয়ে যান। পরে দেশে আসার কথা বলেও আর আসেননি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনের বিষয়ে অন্য একটি সূত্র থেকে জানা যায়, পি কে হালদার ও তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা হয় প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানের হিসাবে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা, পি কে হালদারের হিসাবে ২৪০ কোটি টাকা এবং তার মা লীলাবতী হালদারের হিসাবে জমা হয় ১৬০ কোটি টাকা। তবে এসব হিসাবে এখন জমা আছে মাত্র ১০ কোটি টাকার কম।

অন্যদিকে পিকে হালদার এক ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকেই ২ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ বের করে নিয়েছেন। এসব টাকা দিয়েই আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানা কেনা হয়। তবে ঋণ নেওয়া পুরো টাকার হদিস মিলছে না।

মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) পিকে হালদারের প্রতারণায় সহায়তাকারী ২৪ জনের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। তার আগে এ ঘটনায় ৫৮টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest