শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:২৩ অপরাহ্ন

ধর্ষণ মামলার বিচারে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন নেই দেড় বছরেও

ধর্ষণ মামলার বিচারে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন নেই দেড় বছরেও

স্টাফ রিপোর্টার :
হঠাতই বেড়েছে ধর্ষণ। প্রতিদিন দেশে অন্তত পাঁচটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। আর গণমাধ্যমে উঠে আসছে ধর্ষণের খবর। ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হচ্ছে, গ্রেপ্তারও হচ্ছে। তবে বিচারে ধীরগতিতে বিপাকে ভুক্তভোগীরা। তদন্ত ও বিচার সংশ্লিষ্টদের গাফিলতিতে অনেক সময় সঠিক বিচারও হচ্ছে না।

দু-একটা ঘটনার বিচার হলেও বিচারে পেরিয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছর। ফলে আইনি ঝামেলা এড়াতে সমঝোতায় শেষ হচ্ছে ধর্ষণ মামলা। কখনো কখনো আবার রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ধর্ষকরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

আবার অধিকাংশ অভিযুক্তই জামিনে বেরিয়ে ঘুরছে প্রকাশ্যে। হচ্ছে আরও বেপরোয়া। এদিকে উচ্চ আদালত ধর্ষণের মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আইনের নির্ধারিত সময়সীমার (বিচারের জন্য মামলা প্রাপ্তির তারিখ থেকে ১৮০ দিন) মধ্যে দ্রুত বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে।

 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। ১৮০ দিনের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করার জন্য অধঃস্তন আদালতগুলোকে আদেশ দিলেও দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও আদেশ কার্যকর হয়নি। উপেক্ষিতই রয়ে গেছে হাইকোর্টের দেয়া সাত দফা নির্দেশনাও। ধর্ষণ মামলার বিচারের ক্ষেত্রে আইনেই গলদ রয়েছে।

আইনে ১৮০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বিধান থাকলেও কিন্তু বিচার ১৮০ দিনের মধ্যে না হলে এক্ষেত্রে কোনো জবাবদিহিতার কথা বলা হয়নি। মূলত এটা শুধুই নির্দেশনামূলক, এটা বাধ্যতামূলক নয় বলে মনে করেন বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ।

এদিকে একেকটি ধর্ষণের ঘটনার পর দেশজুড়ে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়, প্রতিবাদ-বিক্ষোভে উত্তাল হয় জনপদ। সিলেটের এমসি কলেজে গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনার পরও তাই হয়েছে। তনু-মিতু-নুসরাতের নাম মানুষের মুখে মুখে ছিলো। তবে এখনো বিচার পায়নি তনু-মিতুর পরিবার। বিচার পাবেন কি-না তা নিয়ের দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা।

 

এদিকে বিচারের দাবিতে সোচ্চার জনতার কণ্ঠ স্তিমিত হতে না হতেই আবারো ধর্ষণের খবর আসে। যুক্ত হয় ধর্ষিত-নিপীড়িত-নির্যাতিত নতুন নতুন নাম। এই চক্রেই আটকে আছে দেশ। ধর্ষণ মামলা দ্রুত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য উচ্চ আদালতের আদেশ থাকলেও বাস্তবায়ন নেই। ফলে ধর্ষণ মামলা বিচারের ক্ষেত্রে কার্যকর হচ্ছে না হাইকোর্টের নির্দেশনা। গত বছরের ১৮ জুলাই সাত দফা নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল।

কিন্তু নির্দেশনা বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগই দেখা যাচ্ছে না। ধর্ষণ মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে থাকা কয়েকজন আসামির জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে ওই নির্দেশনাসহ আদেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।

বিশ্লেষকেরা বলেছেন, উচ্চ আদালত থেকে কোন আদেশ দিলে সেটা অর্ধেক আইনে পরিনত হয়ে যায়। আর হাইকোর্টের যেকোনো আদেশ কার্যকর করাও আইনি দায়িত্ব। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা গাফলতি করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। ধর্ষণ একটা সমাজিক সমস্যা। কিন্তু নির্দেশনা বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগই দেখা যাচ্ছে না।

যদি আদালতে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ধর্ষণের বিচার সম্পন্ন করা যায় তবে এসব অপরাধ কমে আসবে বলে মত দেন তারা। প্রায় অকার্যকর ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার কারণেই অপরাধীরা ছাড়া পাচ্ছে।

কিন্তু নারী যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, তা তো আর মিথ্যা নয়। তাই যদি হবে, তাহলে আদালতে পুলিশ চার্জশিট দেয় কীভাবে? আসল কথা হলো, আমাদের আইনে তো সমস্যা আছেই, মূল্যবোধও নষ্ট হয়ে গেছে। তাই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’

১৯৯৮ সালের ২৩ এপ্রিল রাতে শাজনীনকে ঢাকায় তাদের নিজ বাসায় ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়। ধর্ষণের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৯ মাসে সারা দেশে ৯৭৫টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, ধর্ষণের পর ৪৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে আর আত্মহত্যা করেছেন আরও ১২ জন নারী। গত বছর একই সময়ে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল এক হাজার ১১৫টি। ওই সময়ে ৫৭ জন নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest