শনিবার, ২৪ Jul ২০২১, ১২:৫৫ অপরাহ্ন

দেশে করোনায় আরো ৫৪ মৃত্যু, শনাক্ত ৩০৫০

দেশে করোনায় আরো ৫৪ মৃত্যু, শনাক্ত ৩০৫০

করোনা

গত কয়েকদিন ধরে দেশে করোনাভাইরাসে দৈনিক মৃত্যু ও শনাক্ত বাড়ছে। এ ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ৫৪ জন, যা ৩৬ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে সবশেষ গত ৯ মে একদিনে সর্বোচ্চ ৫৬ জনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়। এরপর মৃত্যুর সংখ্যা এতো বাড়েনি। এদিকে একদিনে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি দেশে বেড়েছে করোনা শনাক্তের সংখ্যাও। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানাচ্ছে গত একদিনে শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৫০ জন।সোমবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ হাজার ৬০২টি নমুনা পরীক্ষায় ৩ হাজার ৫০ জন শনাক্ত হন। এ নিয়ে মোট শনাক্ত ৮ লাখ ২৯ হাজার ৯৭২ জন। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার বেড়ে ১৪.৮০ শতাংশ হয়েছে। রবিবার এ হার ছিল ১২.৯৯ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৩ দশমিক ৪০ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত একদিনে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ৩৯ জন ও নারী ১৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে একজন ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৬ জন, ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৪ জন ও ষাটোর্ধ্ব ২৭ জন রয়েছেন। এ নিয়ে মোট মারা গেছেন ১৩ হাজার ১৭২ জন।

গত একদিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৫৬৪ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৬৮ হাজার ৮৩০ জন।

দেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। কয়েক মাস সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার ঊর্ধ্বগতিতে থাকার পর অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। চলতি বছরের শুরুতে করোনাভাইরাসের প্রকোপ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। তখন শনাক্তের হারও ৫ শতাংশের নিচে নেমেছিল। তবে গত মার্চ মাস থেকে মৃত্যু ও শনাক্ত আবার বাড়তে থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। সে হিসেবে বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেই বলা হয়।

এরমধ্যে গত ১৬ এপ্রিল দেশে দৈনিক মৃত্যু একশো ছাড়ায়। সেদিন ও তার পরদিন ১৭ এপ্রিল ১০১ করে মৃত্যু হয় করোনায়। ১৮ এপ্রিল ১০২ জন ও ১৯ এপ্রিল ১১২ জন মারা যান, যা একদিনে সর্বোচ্চ।

বিশেষজ্ঞরা এটাকে বাংলাদেশে করোনার ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ বলছেন। করোনা সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করায় প্রথমে ২১ এপ্রিল ও পরে তা বাড়িয়ে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করেছিল সরকার। এরপর সেটি ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ১৬ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest