শনিবার, ২৪ Jul ২০২১, ০২:২৯ অপরাহ্ন

করোনায় ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি মারা গেছে ঢাকায় এর পর খুলনা

করোনায় ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি মারা গেছে ঢাকায় এর পর খুলনা

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৩২৫ জনে। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ১১ হাজার ৫শ ৭৯ জন। মঙ্গলবার (২০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৯ হাজার ৯৯৭ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৯ লাখ ৫১ হাজার ৩৪০ জন। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৪০ হাজার ৯৮২ জনের। পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৯ হাজার ৫১০টি। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ২৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। দেশে এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৭৩ লাখ ৩৯ হাজার ৯০৯টি। মোট পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ঢাকা বিভাগেরই ৫১ জন। এছাড়া খুলনায় ৫০, চট্টগ্রামে ৪৯, রাজশাহীতে ১২, বরিশালে ৭, সিলেটে ১১, রংপুরে ১২ এবং ময়মনসিংহে ৮ জন মারা গেছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ১১১ জন পুরুষ এবং ৮৯ জন নারী। এদের মধ্যে ৬ জন বাসায় মারা গেছেন। বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মোট মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ১২ হাজার ৬৬১ জন এবং নারী ৫ হাজার ৬৬৪ জন।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ১০৬ জনের বয়স ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের ৪৮, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ২৭, ৩১ থেকে ৪০ বছরের ১২, ২১ থেকে ৩০ বছরের ৬ এবং ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ১ জন মারা গেছেন।

ময়মনসিংহ মেডিকেল যেন এক মৃত্যুপুরী, একদিনে মৃত্যুর নতুন রেকর্ড: ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড সর্বাধিক ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৭ জন করোনা শনাক্ত হয়ে এবং ১৫ জন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। যা এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। বুধবার (২০ জুলাই) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করে করোনা ইউনিটের ফোকাল পারসন ডা. মহিউদ্দিন খান মুন।

করোনায় মৃত ব্যক্তিরা হলেন, ময়মনসিংহ ভালুকা উপজেলার সাগর (২৫) ও মোকসেদুল (২৮), হালুয়াঘাট উপজেলার প্রদীপ সাগমা (৮৩) নেত্রকোনা পূর্বধলা উপজেলার আক্কাছ আলী (৬৫), কেন্দুয়া উপজেলার সালেহা (৭০), টাঙ্গাইল মধুপুরের ফরিদা ইয়াসমিন (৫৩) এবং জামালপুর সদরের হেরা লাল (৫৫)।

সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, ময়মনসিংহ সদরের সালমা (২০), নওসের আলী (৯০), শহিদুল (৬০), মুক্তাগাছা উপজেলার নাসিমা (৪০), মোমেনা বেগম (২৫), হাজেরা (৭০), গৌরীপুর উপজেলার মোহাম্মদ আলী (৭০), ফুলপুর উপজেলার শরিফুদ্দিন (৬০), টাঙ্গাইল সদরের মোমেনা (৬০), শখিপুর উপজেলার আব্দুল হাকিম (৬০), নেত্রকোনা সদরের রিয়াসুল হক (৫৫), শেরপুর নকলা উপজেলার মঞ্জুর (৬৫), জামালপুর সরিষাবাড়ি উপজেলার উমর আলী (৬৫) ও গাজীপুর সদরের দীপক সরকার (৪৫)।

ডা. মহিউদ্দিন খান মুন জানান, করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটে নতুন ৫৫ জন ভর্তিসহ এখন পর্যন্ত ৩৯২ জন এবং আইসিউতে ২১ জন চিকিৎসাধীন আছেন। সিভিল সার্জন ডা. নজরুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৯২৪টি নমুনা পরীক্ষায় আরও ২০১ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২১.৭৫ শতাংশ। জেলায় মোট আক্রান্ত ১১ হাজার ৯৮২ জন। সুস্থ হয়েছেন ৮ হাজার ৫৮৪ জন।

চট্টগ্রামে করোনার তাণ্ডব, মৃত্যুর নতুন রেকর্ড: দেশে বেড়েছে করোনার ব্যাপক সংক্রমণ ও প্রাণহানি। করোনার মরণ থাবায় প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছে দেশের শত শত মানুষ। এছাড়া বিভাগ ভেদে রয়েছে করোনার তারতম্য। দেশে করোনার সবচেয়ে বেশি প্রকোপ যে জেলাগুলোতে লক্ষ্য করা গেছে, তার মধ্যে চট্টগ্রাম অন্যতম। এদিকে চট্টগ্রামে করোনায় মৃত্যুর নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। জেলাটিতে গেল ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছে ৯২৫ জন।

সোমবার (১৯ জুলাই) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বিআইটিআইডি, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ, এন্টিজেন টেস্ট, ইমপেরিয়াল হাসপাতাল, শেভরন ল্যাব, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল, আরটিএল, মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল এবং ইপিক হেলথ কেয়ারে দুই হাজার ৫৩৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯২৫ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

আক্রান্তদের মধ্যে নগরীর ৫৫৩ জন, পটিয়ার ২৯ জন, রাউজানের ৮০ জন, বোয়ালখালীর ৭ জন, হাটহাজারীর ৬৮ জন, ফটিকছড়ির ৪৭ জন, চন্দনাইশের ১৫ জন, রাঙ্গুনিয়ার ২৪ জন, বাঁশখালীর ১০ জন, সীতাকুণ্ডের ১৭ জন, মিরসরাইয়ের ১৪ জন, সন্দ্বীপের ১৬ জন, সাতকানিয়ার ৩ জন, লোহাগাড়ার ১৭ জন ও আনোয়ারার ২৫ জন রয়েছেন।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, নগরীতে ৫৫ হাজার ৮২ জন ও উপজেলা পর্যায়ে ১৭ হাজার ৫১০ জন নিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭২ হাজার ৫৯২ জন। এছাড়া মারা গেছেন ৮৫৬ জন। এর মধ্যে নগরীর ৫২৬ জন ও উপজেলার ৩৩০ জন রয়েছেন।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest