সোমবার, ১০ মে ২০২১, ০২:২৭ অপরাহ্ন

অবশেষে টনক নড়েছে প্রশাসনের ত্রিশালে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

অবশেষে টনক নড়েছে প্রশাসনের ত্রিশালে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

কামাল হোসেন,বিশেষ প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহের ত্রিশালে হাইওয়ে রোডে অবৈধভাবে স্থাপন করা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা । এবিষয়ে ইতিপূর্বে সংবাদ প্রকাশ হলে অবশেষে প্রশাসনের টনক নড়ে। ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল বৈলর থেকে টিএমসি মোড় পর্যন্ত অবৈধ সকল স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে । সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমিতে গড়ে তোলা হয় এসব স্থাপনা । এ নিয়ে অনলাইন পত্রিকা চব্বিশঘন্টা নিউজে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যেমে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে সওজ ও ত্রিশাল উপজেলা প্রশাসন । সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৗশলীর নির্দেশনায় ব্যবস্থাপনায় ও ত্রিশাল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অভিযান পরিচালনা করা হয় । অভিযানের নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তরিকুল ইসলাম । এসময় সওজের কর্মকর্তাগণ ও থানা পুলিশ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন, অভিযানের নেতৃত্বদানকারি ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান জানান, জনসাধারণের দুর্বোগ লাঘবে প্রশাসন তৎপর রয়েছে । এরই ধারাবাহিকতায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে । অভিযান অব্যাহত থাকবে ।
ইতিপূর্বে ২৪ ঘন্টা নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রিশাল পৌর শহরের কাজী নজরুল ইসলাম কলেজ গেইট সংলগ্ন এবং থানা কার্যালয়ে সাামনে ময়মনসিংহ – ঢাকা মহাসড়কের ওপর প্রতিদিন বসছে অবৈধ বাজার। এতে যানজট বাড়ছে প্রতিদিন । সড়ক ও জনপথ (সওজ) এবং পৌরসভার জমিতে বসানো এই অবৈধ বাজারে রয়েছে প্রায় ৬০০ (ছয়শত) ভাসমান দোকান। তন্মধ্যে ফল, তরিতরকারি, মাংসের দোকান উল্লেখযোগ্য ।
এসব দোকান থেকে রাজনৈতিক দলের নেতা- কর্মী, মস্তান, প্রশাসনের এক শ্রেণির কর্মকর্তা- কর্মচারি এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা চাঁদা হিসেবে প্রতিমাসে আদায় করছেন অন্তত ৩০ লাখ টাকা। বিট নামে এই চাঁদার ভাগ যাচ্ছে সরকারদলীয় নেতা , প্রশাসন আর পুলিশের পকেটে। আর যাত্রী ও পথচারীরা শিকার হচ্ছেন ভোগান্তির। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের একশ্রেণির নেতা-কর্মী বাজার বসিয়ে এ চাঁদাবাজি করছে। এদের মধ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আত্মীয় স্বজনও রয়েছেন।
জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ অভিযানও চালানো হয়। অভিযানের পর আবারও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন চাঁদাবাজ ও বিক্রেতারা। দিন দিন অবৈধ দোকান সম্প্রসারিত হয়ে ময়মনসিংহ- ঢাকা মহাসড়কে চলে এসেছে।থানার সামনেও দোকানের পরিধি বাড়ছে । অভিযোগ রয়েছে, থানার সামনে অবৈধ দোকান থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করে এক শ্রেণির পুলিশ । ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে উচ্ছেদের পর আবারও অদৃশ্য ইশারায় দোকান বসানোর রহস্য ত্রিশালবাসীর কাছে রহস্যই থেকে যাচ্ছে।
দোকানিরা জানান, আকার আর ব্যবসার ধরনভেদে প্রতিটি দোকান থেকে প্রতিমাসে চাঁদা দিতে হয়। এই বাজার সংলগ্ন স্থানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, পিকআপ ভ্যান ও ইজিবাইক চালকদেরও চাঁদা দিতে হয় ।
এদিকে অবৈধ বাজার পরিচালনাকারীদের অর্থাৎ চাঁদাবাজদের তালিকা করেছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা । গোয়েন্দা সংস্থাটির দাবি, একটি রাজনৈতিক দলের ছত্রছায় এসব বাজার বসানো হয়েছে । আমরা তাদেও নামের তালিকা করেছি । তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডেও জড়িত । এই চাঁদার টাকা দিয়ে তারা মাদক সেবন, জয়া খেলাসহ নানান অপরাধে সমৃক্ত হয়ে পড়েছে ।
এদিকে উচ্ছেদ অভিযানে প্রশংসা করেছেন ত্রিশালের সচেতন মহল । এজন্য তারা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী, ইউএনও ও এসিল্যান্ডকে ধন্যবাদ জানান । এলাকাবাসী অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানান ।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest