বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৯:০৫ অপরাহ্ন

অনুমতি ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের নামে মামলা নয়, আইন মনে করিয়ে দিল সরকার

অনুমতি ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের নামে মামলা নয়, আইন মনে করিয়ে দিল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

অনুমতি ছাড়া কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যেন মামলা না হয় তা নিশ্চিত করতে আইন ও বিচার বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সরকারের অনুমতি না নিয়েই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করা হচ্ছে জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, এতে মাঠ পর্যায়ে “শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধ বা দমনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ প্রায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”

সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালন বা সরল বিশ্বাসে করা কাজের সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন আইন যেসব বিধান রয়েছে চিঠিতে সেগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে দুই ব্যবসায়ী ড্রেজার পোড়ানোর অভিযোগ এনে মাদারীপুরের ডিসি ড. রহিমা খাতুনসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন আদালতে।

জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত ওই মামলা গ্রহণ করে পিবিআইকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছে।

১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির সাব-সেকশন-১ থেকে উদ্ধৃত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, “বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট বা কোনো সরকারি কর্মকর্তার কর্তব্য/দায়িত্ব পালনে কৃত বা এ মর্মে দাবিকৃত কোনো কাজের জন্য সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো অপরাধ আমলে গ্রহণ করা যাবে না।”

আর ১৮৫০ সালের ‘জুডিশিয়াল অফিসার্স প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ এর সেকশন-১ এ বলা হয়েছে, “কোনো জজ, ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে তার বিচারিক প্রকৃতির কার্যক্রম বা দেওয়া কোনো আদেশের কারণে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করে দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে না।

চিঠিতে বলা হয়েছে, অপরাধ প্রতিরোধ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রম অধিকতর কার্যকর ও গতিশীলতার সঙ্গে সম্পাদনের জন্য পরিচালিত মোবাইল কোর্টের কার্যক্রমের ‘বিষয়ে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯’ এর ১৪ ধারায় বিধান রয়েছে যে, এই আইন বা তার অধীনে প্রণীত বিধির অধীন সরল বিশ্বাসে করা বা করা বলে বিবেচিত কোনো কাজের জন্য কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে, তিনি মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বা ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা বা অন্য কোনো প্রকার আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারবেন না।

এছাড়া ১৯০৮ সালের ‘কোড অব সিভিল প্রসিডিউর, এর সেকশন-৯ এবং অর্ডার-৭ রুল-১১ (ডি) এ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দেওয়ানি আদালতে এখতিয়ার বারিত হওয়া ও আরজি খারিজের বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলছে, ‘আইনের শাসন’ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সৎ সাহস এবং প্রভাবমুক্ত মনন ও বিবেচনাবোধের মাধ্যমে যথাযথ সিদ্ধান্ত প্রদান ও দৃঢ়ভাবে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এসব বিধানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

“সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক/জেলা ম্যাজিস্ট্রেট/কালেক্টর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সরকারি কর্মচারীদের সরকারি দায়িত্ব পালনে করা কাজের জন্য তাদেরকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করে মামলা করা হচ্ছে।

“কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমোদন নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা প্রতিপালিত হচ্ছে না। এতে করে আইনের ব্যত্যয় ছাড়াও মাঠ পর্যায়ে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধ/দমনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ প্রায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে নদী, খাল, বিল, বন, জলাশয়সহ সরকারি সম্পত্তি ও স্বার্থরক্ষা, অবৈধ ক্ষতিসাধন/জবরদখল প্রতিরোধ ও উচ্ছেদ অভিযানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।”

চিঠিতে বলা হয়েছে, যে কোনো সরকারি কার্যক্রম বা সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আইনে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল দায়ের কিংবা প্রতিকার চেয়ে ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে পারেন।

কোনো কর্মচারী আইনের গুরুতর অপপ্রয়োগ করলে, এখতিয়ারবিহীন ক্ষমতার অনুশীলন করলে কিংবা তার কোনো সিদ্ধান্তে মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি উচ্চ আদালতে যেতে পারেন। অন্যদিকে অধঃস্তন আদালতগুলোর এখতিয়ার এবং কোন কোন ক্ষেত্রে সেটি বারিত থাকবে তা আইনে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।

“এ অবস্থায় বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট ও সরকারি কর্মচারীদের সরল বিশ্বাসে করা কাজের সুরক্ষা প্রদান সম্পর্কিত এবং বিচারিক/সরকারি দায়িত্ব পালনে করা বা এ মর্মে দাবিকৃত কাজের জন্য তাদের ব্যাক্তিগতভাবে দায়ী করে ফৌজদারি মামলা আমলে নেওয়ার আগে সরকারের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিধান যথাযথ প্রতিপালন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল।”

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের এই চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest