শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ১২:৪৭ অপরাহ্ন

ক্যাসিনোকাণ্ডে এনু-রুপনসহ ১১ জনকে ৭ বছর কারাদণ্ড

ক্যাসিনোকাণ্ডে এনু-রুপনসহ ১১ জনকে ৭ বছর কারাদণ্ড

রাজধানীর ওয়ারী থানার অর্থপাচার আইনের মামলায় ক্যাসিনোকাণ্ডে আলোচিত গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি এনামুল হক এনু ও যুগ্ম সম্পাদক রুপন ভূঁইয়াসহ ১১ জনের সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই তাদের সঙ্গে চার কোটি টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ইকবাল হোসেন এ রায় দেন।এর আগে মামলার রায় ঘোষণার জন্য বুধবার দিন ধার্য ছিল। তবে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ইকবাল হোসেন ছুটিতে থাকায় এদিন রায় ঘোষণা হয়নি। পরে আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মনির কামাল রায় ঘোষণার জন্য ২৫ এপ্রিল দিন ধার্য করেন। গত ১৬ মার্চ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য ৬ এপ্রিল দিন ধার্য রেখেছিলেন।

২ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে দায়ের হওয়া এই মামলার মোট আসামি ১১ জন। মামলাটির বিচার চলাকালে আদালত ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক সাদেক আলী ২০২০ সালের ২১ জুলাই এনু ও রুপনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিলেন। গত বছরের ৫ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগ গঠন করেন।

মামালার বাকি আসামিরা হলেন, তাদের ৩ ভাই শহীদুল হক ভূঁইয়া, রাশিদুল হক ভূঁইয়া ও মেরাজুল হক ভূঁইয়া, মতিঝিলের ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জয় গোপাল সরকার এবং তাদের সহযোগী তুহিন মুন্সী, নবীর হোসেন সিকদার, সাইফুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ ও পাভেল রহমান।এদের মধ্যে এনু, রুপন, জয় গোপাল, নবীর হোসেন, আজাদ ও সাইফুলকে ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ওয়ারী থানায় দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। একই মামলায় এর আগে তুহিনকে গ্রেপ্তার করার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। শহীদুল, রশিদুল, মেরাজুল ও পাভেল পলাতক।র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৩ এর পরিদর্শক মো. জিয়াউল হাসাব বাদী হয়ে ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এনু ও আজাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এনু ও রুপনের বিরুদ্ধে এর আগে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে আরও ১২টি মামলা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি ভোরে ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত থাকায় এনু-রুপনকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২২টি জমির দলিল, পাঁচটি গাড়ির কাগজপত্র ও ৯১টি ব্যাংক হিসাবে ১৯ কোটি টাকা থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়াও তাদের কাছ থেকে নগদ ৪০ লাখ টাকা ও ১২টি মোবাইল জব্দ করা হয়।

মামলার এজাহারে সূত্রে জানা গেছে, এনামুলের আয়কর নথি, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তার বৈধ আয়ের কোনো উৎস নেই। তিনি ক্যাসিনো ব্যবসাসহ অবৈধ উপায়ে আয় করা অর্থ দিয়ে প্রচুর সম্পদ অর্জন করেছেন। এসব তার আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি অবৈধ আয়ের মাধ্যমে দেশে–বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন।

জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের ক্যাসিনো খেলা পরিচালনাকারী এনুর কর্মচারী আবুল কালাম আজাদের বাসায় ক্যাসিনো থেকে উপার্জিত টাকা উদ্ধারের জন্য ওয়ারীর লালমোহন সাহা স্ট্রিটের বাড়ি ঘেরাও করে র‌্যাব। কালামের স্ত্রী ও মেয়ের দেখানো মতে ৪র্থ তলার বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে দুই কোটি টাকা উদ্ধার করে র‌্যাব। আসামিরা জেনে-বুঝে অবৈধ প্রক্রিয়ায় উপার্জিত অর্থ আড়াল করার জন্য গোপনে কালামের কাছে রাখে। কালাম তা গ্রহণ করে নিজের কাছে রাখে। যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের অপরাধ। এ ঘটনায় র‌্যাব-৩ এর পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যান) জিয়াউল হাসান ওয়ারী থানায় মামলাটি দায়ের করেন।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest