অনলাইন ডেস্ক:দেশের অনলাইনভিত্তিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান (ই-কমার্স) ইভ্যালি সকল ধরনের দুর্নীতি ও নানা ধরনের অবৈধ তৎপরতার সন্ধানে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এবার ইভ্যালির নানা কর্মকান্ড সম্পর্কে জানতে দুদক কার্যালয়ে ডাকা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে। দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে এবার ইভ্যালির থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইভ্যালির আয় এবং ব্যয়ের মধ্যে যে বিস্তর ফারাক তার অনেক প্রশ্নের জবাব এবার মিলবে বলে তারা মনে করছেন অনেকে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইভ্যালির মোট দায় ৪০৭.১৮ কোটি টাকা। গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম বাবদ ২১৩.৯৪ কোটি টাকা এবং মার্চেন্টদের নিকট থেকে ১৮৯.৮৫ কোটি টাকার মালামাল বাকিতে গ্রহণের পর স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিষ্ঠানটির কাছে কমপক্ষে ৪০৩.৮০ কোটি টাকার চলতি সম্পদ থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ৬৫.১৭ কোটি টাকার। এই বিপুল অংকের অর্থ কোথায় কিভাবে রয়েছে তার নানা প্রশ্নের জাবব মিলবে দুদুকের প্রশ্নে মুখে। এদিকে ‘ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১’ মোতাবেক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিকে গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম নেওয়া ২১৪ কোটি টাকা অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার অথবা পণ্য সরবরাহের দাবি জানিয়েছে টেলি কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিক্যাব)। গতকাল দুপুরে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানান টিক্যাবের আহ্বায়ক মুর্শিদুল হক।

বিজ্ঞপ্তিতে মুর্শিদুল হক বলেন, গত ৪ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেল কর্তৃক ডিজিটাল কমার্স পরিচালনায় স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা, জবাবদিহিতা, ভোক্তাদের আস্থা বৃদ্ধি ও অধিকার নিশ্চিতের লক্ষ্যে ‘জাতীয় ডিজিটাল কমার্স পলিসি ২০২০ (সংশোধিত)’র অনুচ্ছেদ ৩.৩.৬ অনুসারে ‘ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১’ প্রণয়ন করে গেজেট প্রকাশিত হয়। ‘ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১’ এর ৩.৩.২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, পণ্যের সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করা হয়ে থাকলে ক্রেতা ও বিক্রেতা একই শহরে অবস্থান করলে ক্রয়াদেশ গ্রহণের পরবর্তী সর্বোচ্চ পাঁচ দিন এবং ভিন্ন শহরে বা গ্রামে অবস্থিত হলে সর্বোচ্চ ১০ দিনের মধ্যে পণ্য ডেলিভারি করতে হবে। অথচ আমরা দেখতে পাচ্ছি ঢাকাসহ সারা দেশের গ্রাহকদের হাজার হাজার অর্ডার ইভ্যালি, আলেশা মার্টসহ বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান মাসের পর মাস ধরে ফেলে রাখা হয়েছে। ১-৬ মাস পর্যন্ত অপেক্ষার পরও গ্রাহকদের পণ্য বা অর্থ কিছুই ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর অফিসে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনো ফল মিলছে না। অথচ ‘ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১’ অনুযায়ী ১০ দিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রাহকদের পণ্য বা অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান বলেন, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে প্রয়োজনে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তিনি বলেন, ইভ্যালির বিরুদ্ধে গত নভেম্বর থেকেই দুদক অনুসন্ধান করছে। প্রয়োজনে ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন এবং এমডি মো. রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আইনে দুদককে সে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ৯ জুলাই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞায় ইমিগ্রেশনে চিঠি দিয়েছে দুদক।

জানা গেছে, ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল ও তার স্ত্রী যিনি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান যে কোনো সময় দেশ ত্যাগ করতে পারেন- এমন শঙ্কায় তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিতে ইমিগ্রেশনে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে ইভ্যালির অনিয়ম অনুসন্ধানে গতকাল শনিবার দুই সদস্যের কমিটি গঠন করে দুদক। পরে ইভ্যালির এই দুই কর্মকর্তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করে দুদকের কমিটি। শুক্রবার সে আবেদন আদালত ও পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) পাঠানো হয়। দুদকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও এমডি রাসেল দেশত্যাগ করতে পারেন এমন একটি খবর দুদকের কাছে রয়েছে। এজন্য তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিতে ইমিগ্রেশনে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আদালতের অনুমতির বাধ্যবাধকতা থাকায় সেখানেও একই আবেদন পাঠানো হয়। এ নিষেধাজ্ঞা দেয়ার ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন পাঠানোর নিয়ম থাকায় আমরা আগেই ইমিগ্রেশনে চিঠি পাঠিয়েছি। আদালত খুললে ১৫ দিন পর আবেদনটির বিষয়ে শুনানি হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, গত বছরের নভেম্বরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ইভ্যালির বিরুদ্ধে ভোরের পাতা সহ দেশের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদসমূহের পেপার কাটিংসহ একটি অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানের জন্য দুদকে প্রেরণ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে দুদকের মানি লন্ডারিং অনুবিভাগের দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি টিম অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করে। জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রেরিত অভিযোগের মধ্যে ছিল- লোভনীয় অফার প্রদানের মাধ্যমে তার গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অগ্রিম আদায় করছে। গ্রাহকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য প্রদান করছে না বা অন্য পণ্য প্রদান করছে। গ্রাহকের অর্ডারকৃত পণ্য সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলেও যথাসময়ে গ্রাহকের পণ্যমূল্য ফেরত দিচ্ছে না।

পরবর্তীতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ইভ্যালির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের আলোকে আরও একটি অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানো হয়। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অভিযোগ প্রাপ্তির পর কমিশন পূর্ববর্তী অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন। গতকাল দুদক একজন সহকারী পরিচালক ও একজন উপসহকারী পরিচালককে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সংস্থাটির মানি লন্ডারিং অনুবিভাগ থেকে করা ওই তদন্ত কমিটিকে ইভ্যালির গ্রাহক ও মার্চেন্টের ৩৩৯ কোটি টাকার হদিস না মেলার বিষয়টি অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুয়ায়ী ইভ্যালির চলতি সম্পদের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটি দায় বেশি। প্রতিবেদন অনুযায়ী গত ১৪ মার্চ পর্যন্ত চলতি সম্পদ প্রায় ৬৫ দশমিক ১৮ কোটি টাকা এবং মোট দায় প্রায় ৪০৭ দশমিক ১৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম হিসেবে গৃহীত দায় প্রায় ২১৪ কোটি টাকা এবং ইভ্যালির মার্চেন্টদের কাছে দায় প্রায় ১৯০ কোটি টাকা। প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র ৬৫ দশমিক ১৮ কোটি টাকা, যা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তার চলতি দায়ের বিপরীতে মাত্র ১৬ দশমিক ১৪ শতাংশ গ্রাহককে পণ্য সরবরাহ করতে পারবে। গ্রাহক ও মার্চেন্টদের নিকট হতে গৃহীত প্রায় ৩৩৯ কোটি টাকার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাৎ অথবা অন্যত্র সরিয়ে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে মর্মে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে প্রতীয়মান হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়বস্তু আমলে নিয়ে কমিশনের নির্দেশক্রমে দুদকের অনুসন্ধান টিম অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র ও তথ্যাদি সংগ্রহ করছে।

টিক্যাবের আহ্বায়ক মুর্শিদুল হক আরও বলেন, সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ইভ্যালির মোট দায় ৪০৭.১৮ কোটি টাকা। গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম ২১৩.৯৪ কোটি টাকা এবং মার্চেন্টদের কাছ থেকে ১৮৯.৮৫ কোটি টাকার মালামাল বাকিতে গ্রহণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিষ্ঠানটির কাছে কমপক্ষে ৪০৩.৮০ কোটি টাকার চলতি সম্পদ থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ৬৫.১৭ কোটি টাকা। বাকি অর্থ কোথায় তার কোনো হদিস নেই। এ অবস্থায় গ্রাহকরা তাদের অগ্রিম পেমেন্ট করা অর্থ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেলসহ ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় আগামী দুই মাসে ইভ্যালি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে, দায়ের তুলনায় ইভ্যালির ব্রান্ডভ্যালু অনেক বেশি এসব কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু অর্থ লোপাটের অভিযোগের কোনো সন্তোষজনক উত্তর তারা দিচ্ছেন না। আমরা আশঙ্কা করছি গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছে ইভ্যালির দায়ের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।

টিক্যাবের আহ্বায়ক বলেন, গত বছর থেকে করোনা মহামারির ফলে সারাদেশে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় অনেকটাই স্থবিরতা নেমে আসে। এক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন প্লাটফর্মে পণ্য কেনাকাটায় অনেকটা সুফল পাওয়া গেছে। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় দু-একটি প্রতিষ্ঠানের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হলে তা সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে। মুর্শিদুল হক বলেন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পণ্য সারা দেশের গ্রাহকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মেইড ইন বাংলাদেশ পণ্য সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিতেও আমরা ই-কর্মাস প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করতে পারি।

প্রতিযোগিতা বাড়াতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনকে দেশের বাজারে নিয়ে আসা যায় কি না তা ভেবে দেখা যেতে পারে। অ্যামাজনের মাধ্যমে ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত আমাদের প্রতিবেশী ভারত বৈশ্বিক বাজারে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য বিক্রি করেছে। সম্প্রতি পাকিস্তানেও অ্যামাজনকে ব্যবসা পরিচালনা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশও কীভাবে সুফল পেতে পারে তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। এদিকে বিজ্ঞপ্তিতে টিক্যাবের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের স্বার্থরক্ষায় তিন দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়- ১. ইভ্যালি, আলেশা মার্টসহ যেসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের অর্ডার মাসের পর মাস ফেলে রেখেছে, ‘ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১’ অনুযায়ী ১০ দিনের মধ্যে সেসব অর্ডারের বিপরীতে গ্রাহকদের পণ্য অথবা অর্থ ফেরত দিতে হবে। ২. ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ জমা পড়েছে সেগুলো দ্রুততার সঙ্গে নিষ্পত্তি করতে হবে। ৩. ই-কর্মাস প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম বা প্রতারণার আশ্রয় না নিতে পারে, সেজন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে ও অভিযোগ প্রমাণ হলে গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।