শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন

শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেওয়া সেই যুবক ফিরলেন ৬ বছর পর!

শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেওয়া সেই যুবক ফিরলেন ৬ বছর পর!

নারায়ণগঞ্জ. প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানায় একটি অপহরণ মামলার ৬ বছর পর নিজেই আদালতে হাজির হয়েছেন কথিত অপহৃত যুবক মামুন। অথচ পুলিশ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ওই অপহৃতকে হত্যার পর লাশ গুম করে শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। আর সিআইডি তাদের দেওয়া চার্জশিটে বলেছে, যুবককে অপহরণ করা হয়েছে।

এসব কারণে গত ৪ বছর ধরেই মামলার আসামি হয়ে বিভিন্ন সময়ে কারাভোগ ও রিমান্ডের শিকার হয়েছেন খালাতো বোনসহ ৬ জন। মামলাটির বিচার কাজও সম্পন্নের পথে ছিল। এ অবস্থায় আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় কথিত অপহৃত হাজির হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কথিত অপহৃত মামুন ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকার আবুল কালামের ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১০ মে মামুন অপহৃত হয়েছে-অভিযোগ এনে দুই বছর পর ২০১৬ সালের ৯ মে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন বাবা আবুল কালাম। ওই মামলায় ৬ জনকে বিবাদী করা হয়। বিবাদীরা হলো তাসলিমা, রকমত, রফিক, সাগর, সাত্তার, সোহেল। মামলার পর পুলিশ অভিযুক্ত ৬জনকেই গ্রেপ্তার করে।

ওই মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে পুলিশ। ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মিজানুর রহমান। তিনি আদালতে আসামিদের রিমান্ড চাওয়ার সময়ে আর্জিতে উল্লেখ করেন, ‘খালাতো বোন তাসলিমা ২০১৪ সালের ১০ মে মামুনকে ডেকে নিয়ে কৌশলে অপহরণ করে বিষাক্ত শরবত পান করিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যায় ফেলে দিয়েছে।’

পরে মামলাটি তদন্ত করে সিআইডি। নারায়ণগঞ্জ সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর মামলার চার্জশীট আদালতে দাখিল করেন। চার্জশীটে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৪ সালের ১০ মে খালাতো বোন তাসলিমাকে দিয়ে কৌশলে মামুনকে বাড়ি ডেকে আনা হয়। পরবর্তীতে মামনুকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় তাসলিমা। কিন্তু বিয়েতে রাজি না হওয়াতে বিবাদী ৬ জন মিলে মামুনকে কোমল পানিয়ের সঙ্গে চেতনানাশক দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে সিএনজি চালিতা অটো রিকশাযোগে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যায়। তবে কোথায় কিভাবে কি অবস্থায় রাখা হয়েছে সেটা জানা যায়নি।’

মামলার বিবাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ এমদাদ হোসেন সোহেল জানান, ফতুল্লা থানা তাদেরকে রিমান্ডে নিয়েছে। ফৌজদারী ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী নেওয়ার জন্য তাদেরকে বারবার চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। মেরে রক্তাক্ত করেছে তৎকালিন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। কিন্তু জবানবন্দী আদায় করতে পারে নাই। পরবর্তীতে তারা জেলা ও দায়রা জজ থেকে জামিন নিয়েছে। তাসলিমা ও রফিক হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছে।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest