শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন

যুবককে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

যুবককে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

সিলেট প্রতিনিধি :
সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমদ (৩৪) নামে এক যুবককে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভোর রাতে পুলিশ হেফাজত থেকে ফোন করে তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য বাবার কাছে টাকা চেয়েছিল রায়হান। এরপরই তার মৃত্যু হওয়ায় পুলিশের হেফাজতে কী করে এটা হলো তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। তার পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে আঘাতের চিহ্ন। এমনকি তার হাতের নখ উপড়ানো ছিল। প্রথম দিকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করলেও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর ঘটনাটি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন তারা। রবিবার (১১ অক্টোবর) ভোরে এ ঘটনা ঘটে।

রায়হান সিলেট নগরীর আখালিয়া এলাকার নেহারিপাড়ার গুলতেরা মঞ্জিলের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে।

এদিকে রবিবার বিকাল ৩টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। এরপর এশার নামাজের পর জানাজা শেষে তার লাশ পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান বলেন, পুলিশ হেফাজতেই রায়হানের মৃত্যু হয়েছে এটা ইতোমধ্যে প্রতীয়মান। যখন ভোর ৪টা ২০ মিনিটে রায়হান তার পিতাকে ফাঁড়ি থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য টাকা চেয়ে ফোন করেছে, তাহলে এর আগে তার ওপর নির্যাতন হয়েছে। পুলিশ হেফাজতে থেকে রায়হান ফোন দিয়েছে বিষয়টি পুলিশেরও জানা। এমনকি তার অবস্থান সম্পর্কেও সে পিতাকে জানায়।

তিনি বলেন, পুলিশ দাবি করছে সে ছিনতাই করার সময় গণপিটুনিতে মারা গেছে। তাহলে পুলিশ প্রথমে হাসপাতালে না নিয়ে ফাঁড়িতে নিয়ে গেলো কেন?

রায়হানের মা সালমা বেগম অভিযোগ করেন, আমার ছেলেকে পুলিশ নির্যাতন করে হত্যা করেছে। আমরা পুলিশের দাবিকৃত টাকা ফাঁড়িতে নিয়ে গেলেও আমার ছেলেকে বাঁচাতে পারলাম না। ছেলের হাতের নখ তোলা হয়েছে। তাছাড়া তার পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ ইচ্ছাকৃত এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমার ছেলের কোনও অপরাধ ছিল না।

তিনি জানান, রবিবার ভোর ৪টা ২০ মিনিটের দিকে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে কল দেওয়া হয় রায়হানের পিতার নম্বরে। এ সময় রায়হান টাকা নিয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে দ্রুত আসার জন্য তার পিতাকে জানায়। কিন্তু, টাকা নিয়ে যাওয়ার আগেই পুলিশ আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে।

রায়হানের পিতা হাবিবুর রহমান জানান, ছেলেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসার জন্য কিছু টাকা নিয়ে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে যাই। কিন্তু সাদা পোশাকে থাকা কয়েকজন যুবক জানায়, রায়হানসহ পুলিশের অফিসাররা এখন ঘুমাচ্ছেন। সকাল ১০টার দিকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে এলে তাকে ফাঁড়ি থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে। ১০টার দিকে ফাঁড়িতে টাকা নিয়ে গেলে পুলিশ সদস্য কয়েকজন জানান, সকাল ৭টার দিকে রায়হান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারি সে মারা গেছে।

তিনি আরও জানান, পুলিশ ফাঁড়িসহ আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হলে বিষয়টি প্রকাশ পাবে। বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হানকে কয়টার সময় নিয়ে যাওয়া হয় এবং কারা ওই সময়ে পুলিশ ফাঁড়িতে অবস্থান করছিল সেটা অবশ্যই পরীক্ষা করার দাবি করছি।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যোতির্ময় সরকার জানান, নানা বিষয় মাথায় রেখে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এ ঘটনায় পুলিশের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে পুলিশ মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তদন্ত করে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়েও কাজ করে যাচ্ছে পুলিশের একটি দল।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest