শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৮:২০ অপরাহ্ন

মেয়েকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ ও ভাগ্নিকে ভখাটে যুবকের কাছে বিয়ে না দেয়াই ছিল মোটরসাইকেল চালক হত্যাকান্ড

মেয়েকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ ও ভাগ্নিকে ভখাটে যুবকের কাছে বিয়ে না দেয়াই ছিল মোটরসাইকেল চালক হত্যাকান্ড

হানিফ উল্লাহ আকাশ, বিশেষ প্রতিনিধি : মেয়েকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করা ও ভাগ্নিকে ভখাটে যুবকের কাছে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার চিরাম ইউনিয়নের ভাড়াটে মোটর সাইকেল চালক সোহাগ মিয়াকে হত্যা করা হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনা পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সি। শুক্রবারা সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ফখরুজ্জামান জুয়েল এর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসপি এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১ লা আগষ্ট বারহাট্টা থানার চিরাম এলাকার মোটর সাইকেল চালক সোহাগ মিয়ার লাশ পাওয়া যায় স্থানীয় একটি ব্রীজের কচুরি পানার নিচে। পরে এ ঘটনায় নিহতের ভাই টিটু মিয়া বাদি হয়ে বারহাট্টা থানায় অজ্ঞাত নামা কয়েকজনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট নিয়ে মামলার তদন্ত কাজ শুরু করে প্রাথমিক ভাবে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে গাজিপুর জেলা থেকে একই এলাকার দ্বীন ইসলামের ছেলে সাখাওয়াত হোসেন (১৯) ও উপজেলার ছয়হাল এলাকার আকবর মাস্টারের ছেলে ইবনে সাকিব শাকিল (২০) কে চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড থেকে আটক করে পুলিশ।
পরে শাকিল বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এ সময় হত্যাকান্ড পূর্ব পরিকল্পিত উল্লেখ্য করে এ সাথে জড়িত আরো ৩ জনের নাম স্বীকার করে বলে,২৮ জুলাই রাতে ভিকটিম একা কুচ দিয়ে মাছ ধরতে আসলে পিছন থেকে জাপটে ধরে এলোপাথারি মারধর করে, শার্ট দিয়ে মুখ চেপে ধরে এবং ডোবার পানিতে ডুবিয়ে রেখে মৃত্যু নিশ্চিত করে পরবর্তীতে আসামীরা কচুরিপানা ও ঝাউ গাছ দিয়ে ঢেকে লাশ গুম করে চলে যায়। পরে ঘটনার তিন দিন পর লাশ বন্যার পানিতে ভেসে উঠলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠায়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্ত ও বারহাট্টা থানার ওসি তদন্ত সোহেল রানা বলেন, মামলায় আরো ৩ জন আসামী রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আর গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন আসামী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
নেত্রকোনা পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সি বলেন, নেত্রকোনা জেলায় সব ধরণের অপরাধ জিরো টলারেন্সে আনতে পুলিশ সব সময় সচেষ্ট রয়েছে। বারহাট্টার এই মামলাটি একেবারেই ক্লু-ল্যাস একটি ঘটনা। তারপরও পুলিশ মামলাটির রহস্য উৎঘাটন করেছে এবং আসামীদের গ্রেফতার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিয়েছে। একটা কথা স্পষ্ট বলতে চাই অপরাধীরা যতো কৌশলেই অপরাধ সংঘঠিত করুক না কেন,আমরা সেটা খুজেঁ বের করবো এবং তাদের আইনের আওয়া আনবো, সব ধরণের অপরাধ নির্মূলে নেত্রকোনা জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর বলেও জানান এসপি।

 


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest