বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৬:৪১ পূর্বাহ্ন

জেরিন-প্রতীকের মাস্টার প্ল্যানে ভারতে নারী পাচার করে এই চক্র

জেরিন-প্রতীকের মাস্টার প্ল্যানে ভারতে নারী পাচার করে এই চক্র

মালয়েশিয়া, দুবাই ও ভারতে ভালো বেতনে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নারী পাচার করে এই চক্র। এই চক্রের মূলহোতা জান্নাতুল ওরফে জেরিন ও প্রতীক খন্দকার ওরফে বাবু।

নারী পাচারকারী চক্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত পাঁচজনকে এরইমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগ। তারা হলেন- মো. শাহীন, মো. রফিকুল ইসলাম, বিপ্লব ঘোষ, আক্তারুল ও মো. বাবলু। তারা বিভিন্নভাবে গ্রামের সহজ সরল নারীদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করে দিতো ভারতে।

অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ মো. রেজাউল হায়দার বলেন, গ্রেফতার শাহীন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে নারীদের গাড়িতে করে ঢাকার বাইরে নিয়ে যেতেন। গাড়ি চালক শাহীন যশোরের সীমান্ত এলাকায় পাচারের উদ্দেশ্যে থাকা চক্রের সদস্য রফিকুল ইসলামের বাড়িতে নিয়ে তার জিম্মায় রাখতেন। এরপর রফিকুলসহ আরো এক সহযোগী বিপ্লব সেখান থেকে যশোর সীমান্ত এলাকায় পর্যন্ত পৌঁছে দিতেন। সেখান থেকে নারীদের পাচারের জন্য নৌকায় করে পারাপার করার কাজ করতেন বাবলু।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৯ সালের শেষ দিকে সাবলেটে থাকা ভাড়াটিয়া স্বামী-স্ত্রীর ফাঁদে পড়েন সবুজবাগের এক তরুণী। এ ঘটনায় ২৫ আগস্ট সাবলেটে ভাড়া থাকা জান্নাতুল ওরফে জেরিন ও প্রতীক খন্দকার ওরফে বাবুকে গ্রেফতার করে সিআইডি।

সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ রেজাউল হায়দার বলেন, মানব পাচারের এই চক্রের মূলহোতা প্রতীক খন্দকারকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গ্রেফতার হওয়া দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আসামি প্রতীক ও জেরিন দু’জনই প্রতারক। তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে একসঙ্গে বসবাস করতেন। নারীদের বিদেশে পাঠানোর জন্য বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করে তাদের ভারতের দালাল চক্রের কাছে বিক্রি করে দিতেন এবং জোরপূর্বক অশালীন কাজে লিপ্ত হতে বাধ্য করতেন।

প্রতীক ও জেরিন দু’জনই বিভিন্ন বয়সী নারীদের মালয়েশিয়া, দুবাই ও ভারতে ভালো বেতনে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখাতেন। তবে বিদেশে পাঠানোর জন্য ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে তারা কোনো টাকা নিতেন না। প্রথম থেকে শুরু করে ভারতে তাদের বিক্রির আগ পর্যন্ত খুব ভালো ব্যবহার করতেন। এরপর ভারতে পাচারের পর তাদের অসামাজিক কাজে লিপ্ত হতে বাধ্য করতেন এই চক্রটি। ওই চক্রের কাছে এসব নারীকে বিক্রি করে অর্থ হাতিয়ে নিতেন এই প্রতারক ও জেরিন।

তিনি বলেন, এর আগেও আসামিরা বিভিন্ন নারীকে সৌদি আরবে পাঠানোর কথা বলে ভারতে পাচার এবং অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতে বাধ্য করেন। এ বিষয়ে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

আসামি প্রতীক খন্দকারের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি আইনে পৃথক দু’টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest