মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০১:২২ অপরাহ্ন

চাঁদাবাজি করে কোটিপতি কসাই আক্তার!

চাঁদাবাজি করে কোটিপতি কসাই আক্তার!

বিশেষ প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামে ঘাট শ্রমিক সর্দার আবু তৈয়ব হত্যা মামলার অন্যতম আসামি আক্তার হোসেন ওরফে কসাই আক্তারের অপকর্মের নানা কাহিনী বের হয়ে আসছে।

সরকারি জমি দখল, বস্তি গড়ে তুলে ভাড়া প্রদান, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে কয়েক বছরেই কোটিপতি বনে গেছে সে। কর্ণফুলীর দক্ষিণ তীরে শিকলবাহা মাস্টার ঘাটে গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করত আক্তার। তাই তাকে সবাই কসাই আক্তার হিসেবেই চেনে।

কর্ণফুলীর উত্তর তীরে নতুন ফিশারিঘাট ও ভেড়া মার্কেট এলাকায় এসে প্রথম দিকে মাংস বিক্রির ব্যবসা শুরু করলেও বেশিদিন করেননি। যুবলীগে নাম লিখিয়ে শুরু করে সরকারি জমি দখল ও চাঁদাবাজি।

প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থেকে দিনে দিনে ফুলেফেঁপে ওঠে আক্তার। গড়ে তোলে নিজস্ব বাহিনী। সরকারি জমিতে নিজের নামে বস্তিঘর গড়ে তোলে। আক্তার কলোনি হয়ে ওঠে অপরাধীদের আখড়া।

মদ-জুয়া-দেহব্যবসা চলে ভেড়া মার্কেট সমবায় সমিতির নামে গড়ে তোলা ক্লাবে। শনিবার সালিশের নামে ডেকে এনে ফিশারিঘাটের ঘাট শ্রমিক সর্দার আবু তৈয়বকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে আক্তার বাহিনী। এ ঘটনায় আক্তার ও তার কলোনির ইনচার্জ হাসিনাসহ ৭ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তারা সবাই আক্তারের হয়ে নানা অপকর্ম করে।

এলাকাবাসী জানান, কসাই আক্তারের ক্যাডার বাহিনীতে রয়েছে, আলমগীর ও আজমগীর নামে দুই ভাই, সালাহউদ্দিন, মানিক ওরফে টোকাই মানিক, সাইফুদ্দীন, রায়হান উদ্দিন প্রকাশ রানা, আশরাফুল ইসলাম, সবুজ, আবু তাহের প্রকাশ কালু ও হাসিনা আক্তার। এর মধ্যে ৬ জন আবু তৈয়ব হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়েছে।

জানা গেছে, আক্তার হোসেন ২০-২৫ বছর আগে শিকলবাহা থেকে চট্টগ্রামের ফিশারিঘাট এলাকায় চলে আসে। কর্ণফুলী নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার লাগিয়ে বালুর ব্যবসা শুরু করে। চাক্তাই ও মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে সরকারি খাস জমির ওপর নজর পড়ে তার।

বক্সিরহাট ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল হক ও তার ভাই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমিন শান্তি সওদাগরের ছত্রছায়ায় থেকে আক্তার বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তারাই আক্তারকে বক্সিরহাট ওয়ার্ড যুবলীগের সহসভাপতির পদে বসান। তার রয়েছে দুটি ফিশিংবোট।

সূত্র জানায়, নতুন ফিশারিঘাটের কাছে মেরিন ড্রাইভ সড়কের দুই পাশে আড়াইশ’ থেকে ৩০০টি বস্তি ঘর তুলে ভাড়ায় লাগিয়েছে আক্তার। সেমিপাকা ও কাঁচা বস্তি ঘরের প্রতিটি থেকে মাসে আড়াই হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করে। ফিশিংঘাটে ট্রলার ভিড়লেও দিতে হয় চাঁদা। অবৈধ ড্রেজার থেকেও তার রয়েছে বিপুল অঙ্কের আয়। সব মিলিয়ে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করে আক্তার।

ফিশারিঘাটের ব্যবসায়ী মো. হোসেন বলেন, কসাই আক্তারের অপকর্মে ফিশারিঘাটের লোকজন অতিষ্ঠ। আক্তার কলোনিতে হয় না এমন কোনো অপরাধ নেই।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) পলাশ কান্তি নাথ কে বলেন, ‘আবু তৈয়ব হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি আক্তারের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমরা তার বিষয়ে আরও খোঁজখবর নিচ্ছি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest