বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:৩৯ অপরাহ্ন

কোটিপতি কেরানি মুকুল চলেন ভিআইপি স্টাইলে

কোটিপতি কেরানি মুকুল চলেন ভিআইপি স্টাইলে

লোহাগড়া সংবাদদাতা:
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) অফিসের অফিস সহকারী মো. মনিরুজ্জামান মুকুল। সামান্য কেরানি পদমর্যাদার মুকুল আজ কোটি টাকার সম্পদের মালিক। চলাফেরা করে ভিআইপি স্টাইলে। কেরানি মুকুলের হঠাৎ এত সম্পদের মালিক হওয়ায় নড়াইলজুড়ে বইছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। অভিযোগ রয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সে এ বিশাল সম্পত্তির মালিক হয়েছে। গত ১৬ আগস্ট তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করায় মিলন খান নামে নড়াইলের এক ব্যবসায়ী দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে ও লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের এগারো নলী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মো. মকসেদ মোল্যার ছেলে মো. মনিরুজ্জামান মুকুল পিআইও অফিসের ১৫ হাজার ৯৬০ টাকা বেসিক বেতনের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। তিনি গত ১০ বছরে বরগুনা, মাগুরা, নড়াইল সদর ও লোহাগড়া পিআইও অফিসে চাকরি করেছে। বর্তমানে লোহাগড়া পিআইও অফিসে সে একাই একশ। কাউকে তোয়াক্কা করে না সে। দুই হাতে অবৈধ পন্থায় কামিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এদিকে এ কেরানি মনিরুজ্জামান লোহাগড়া পৌর শহরের মদিনা পাড়ায় ৮ শতক জায়গার ওপর কোটি টাকা খরচ করে বিলাসবহুল একটি দ্বিতল আলিশান ভবন নির্মাণ করেছে। নিজ গ্রামের বাড়ি এগারো নলীতেও আরও একটি দ্বিতল বাড়ি নির্মাণ করেছে। পাশাপাশি তার নামে মাগুরা পৌর শহরের পার নান্দুয়লী গ্রামে ৭ শতক জমি, বরগুনা সদর উপজেলা পরিষদের পাশে এক খণ্ড জমি, লাহুড়িয়া মৌজায় ২৪ শতক করে দুটি জমি, এগারো নলীতে আরও ৩০ শতক জমিসহ বিঘা বিঘা সম্পত্তি কিনেছে। এ ছাড়া নামে-বেনামে আরও সম্পদ রয়েছে, রয়েছে ব্যাংক ব্যালেন্সও। তার টাকা দিয়েই দুই সহোদর ব্যবসা করছে।
এ ছাড়া অনৈতিকভাবে মুকুল তার মালিকানাধীন দুটি বিলাসবহুল বাড়িতে দুটি ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের সরকারি স্ট্রিট লাইট এবং একটি লক্ষাধিক টাকা মূল্যের এসিডিসি বসিয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হলেও চলে রাজার হালে, ওঠা-বসা, চলাফেরা হাই-প্রোফাইল লোকদের সঙ্গে। স্থানীয় প্রভাব আর ক্ষমতার অপব্যবহার করে পিআইও অফিস থেকে অন্যের নামের লাইসেন্সে বিভিন্ন সময়ে অনেক কাজ বাগিয়ে নেয়। ঠিকাদারদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে মাসোহারা আদায়ও করে থাকে কেরানি মুকুল।
অভিযোগ প্রসঙ্গে কেরানি মনিরুজ্জামান মুকুল দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কথা অস্বীকার করলেও দামি বাড়ি ও সম্পত্তির কথা স্বীকার করেছে। তবে তার দাবি পুরো টাকাই তিনি বৈধভাবে আয় করেছে। কেরানির চাকরি করে হঠাৎ এত টাকার মালিক কীভাবে হলে এমন প্রশ্নের জবাবে সে (মুকুল) এ প্রতিনিধিকে ম্যানেজ (নিউজ না করার জন্য) করার চেষ্টা করে। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের অর্পিত তদন্ত সম্পর্কে জেলা প্রশাসক আঞ্জুমান আরা বলেন, তদন্ত চলছে। শেষ হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সময়ের আলো :


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest