রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০৭:২১ অপরাহ্ন

কক্সবাজারে কারারক্ষীদের মোবাইল ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ!

কক্সবাজারে কারারক্ষীদের মোবাইল ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ!

সালাউদ্দিন কাদের : চট্রগ্রাম কক্সবাজার জেলা কারাগারে কারারক্ষীদের মোবাইল ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে শীর্ষ মাদক কারবারিরা । অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী ইয়াবা কারবারি উখিয়া-টেকনাফ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির ভাই আ: শুক্কুর, মাওলানা মজিবুর রহমান ও খুনি একরাম,দিদারুল ইসলাম, শাজাহান চেয়ারম্যান কারাগারে বন্দি থেকেও নিয়মিত খাসি মুরগি অর্থাৎ পোলাও মাংস রান্না করে খান । কারাগারে জামাই আদরে বসবাস করেন, কারারক্ষীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। কেবল বদীর ভাই-ই নন । এমন অনেক প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ী যারা কারাগারকে নিজেদের মাদক ব্যবসার উপযুক্ত স্থান হিসাবে ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন । অভিযোগ আছে, কক্সবাজার জেলা কারাগারের অনেক কারারক্ষীর রয়েছে ৩ থেকে ৪টি করে মোবাইল সিম । এসব সিম ব্যবহার করে স্মার্টফোনের সাহায্যে মোবাইলকল ও ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন । এসব মোবাইল ব্যবহার করে লাখ লাখ টাকার লেনদেনও হচ্ছে । কারাগারে থেকেছেন এখন জামিনে বেড়িয়ে এসেছেন এমন ব্যক্তিদের নিকট থেকে এসব তথ্য জানা গেছে । সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার কারাগারে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর পাশাপাশি চুনোপুটি মাদক ব্যবসায়ীরাও রয়েছেন । তন্মধ্যে টেকনাফের বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশের রোষানলে ও আক্রোষের শিকার হওয়া অনেক নিরীহ মানুষ রয়েছেন যারা সাজানো মামলার আসামি হয়ে রয়েছেন এই কারাগারে । মাদক কারবারিরা রাজভোগ খাওয়া- দাওয়া, মোবাইল ব্যহারের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ , বাইরের জগত, আত্বীয় স্বজনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ, লেনদেন অর্থাৎ আয়েশি জীবন- যাপন করলেও প্রদীপের রোষানলের শিকার বন্দিদের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো । এইসব বন্দিরা অমানবিক জীবন- যাপন করেন । আর্থিক দৈন্যতার কারণে তারা আদালতে জামিনের আবেদন পর্যন্ত করতে পারছেন না । অথচ কারাগারে থাকা শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা নির্ধিদায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে । কারণ আগে থেকে বন্দি থাকায় নতুন করে তাদেরকে পুলিশী মামলায় জড়ানোর সুযোগ নেই । বন্দি অবস্থাতেও নির্বিঘ্নে তাদের মাদক ব্যবসা চলছে। অভিযোগ রয়েছে, খোদ কারা কর্মকর্তাদের একটি অংশ এই মাদক ব্যবসায়ীদের নানাভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন । এই কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোকাম্মেল হোসেন , জেলার থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্টরা কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে আয় করছেন । যার উৎসের সিংহভাগই আসে এই মাদক কারবারি বন্দিদের মাধ্যমে। কারারক্ষীদের নামের মোবাইল সিম গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে ট্রাকিং করা হলেই মাদক কারবারিদের কথোপকথন রেকর্ড বেড়িয়ে আসবে বলে মনে করেন কক্সবাজার সচেতন নাগরিকরা । একটি সূত্রে জানা গেছে, একটি গোয়েন্দা সংস্থা ইতিমধ্যে বিষয়টির গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে । কক্সবাজারবাসীর দাবি, কারা সংশ্লিষ্ট কোন কর্মচারীর বিরুদ্ধে অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলেই তা তদন্তের মাধ্যমে প্রমানিত হলে সংশ্লিষ্টর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত । তাদের মতে নিরাপত্তার মধ্যেও কারাগারের ভেতরে এহেন কর্মকান্ড হতাশাজনক। এতে করে কারাগারের অপরাধীরা সংশোধনের পরিবর্তে আরো ভয়ংকর হয়ে উঠছে । দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন না করলে অচিরেই মারাত্বক ঝুঁকি হিসাবে দেখা দিতে পারে । এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিনিয়র জেল সুপার মোকাম্মেল হোসেন জানান,এটা ঠিক না,জেবার চালু আছে আমাদের ফোনেও নেট থাকে না। কারারক্ষীদের মোবাইল ফোন থেকে যোগাযোগ করা হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা মিটিং করে সবসময় সতর্ক করে থাকি চাকুরী চলে যাবে এমন ভয় দেখাই। আমি মিটিং এ আছি বলে ফোন কেটে দেন।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest