শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:৩০ অপরাহ্ন

এমপির ক্যাডার – মাদককারবারি রয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিতে

এমপির ক্যাডার – মাদককারবারি রয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিতে

খায়রুল আলম রফিক :
দেশে কমপক্ষে ৩৫জন সংসদ সদস্য অর্থাৎ এমপি আছেন, যাদের লোকজনের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে । এসব এমপির রয়েছে নিজস্ব ক্যাডার ও সন্ত্রাসী বাহিনী । এই সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সন্ত্রাস চাঁদাবাজিসহ নানান অপরাধমূলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত । এমনও এমপি আছেন যাদের আছে কিছু চিহ্নিত দালাল । এসব দালাল ডিও লেটার সংগ্রহ । টাকার বিনিময়ে নিয়োগ বাণিজ্য, পুলিশ থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তা – কর্মচারির বদলীর তদবির, মজমা বসিয়ে দরবার- শালিস , জমি দখল, পুলিশকে দিয়ে গ্রেপ্তার আবার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন । এসব করে এমপি ও তাদের অনুসারীরা টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছেন । নিজেদের নিরাপদ রাখতে আত্বীয়- স্বজনদের নামে জমি ক্রয় ও ব্যাংকে জমাচ্ছেন মোটা অংকের টাকা ।
অভিযোগ রয়েছে, এমপির লালিত পালিত লোকজনদের অনেকেই বিএনপি জামায়াত সমর্থিত । ময়মনসিংহ বিভাগের এমন দুজন এমপির বিরুদ্ধে সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর অভিযোগ জমা পড়েছে কয়েকটি,এসব অভিযোগ তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে । গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান,
ময়মনসিংহের দুজন এমপির সন্ত্রাসী বাহিনী , ক্যাডার ও দালাল বাহিনীর এবং স্বজনরা রয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিতে।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে বর্তমান সরকার। ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে টানা ছুটি, লকডাউন ঘোষণার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আবার দেশের অর্থনীতি ও জনজীবন সচল রাখতে নেওয়া হচ্ছে বিশাল অঙ্কের প্রণোদনা ঘোষণাসহ নানা উদ্যোগ। অথচ স্বাস্থ্য খাতে ব্যর্থতা ও দুর্নীতি-অব্যবস্থাপনা, ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের ত্রাণের চাল ও অর্থ আত্মসাতের মতো ঘটনা সরকারের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সর্বোপরি ঐ সব সংসদ সদস্যের নানা অপকর্ম সরকারের সব অর্জনকে ম্লান করে দিচ্ছে। এসব এমপি, তাদের ক্যাডার বাহিনী, দালাল বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে সিন্ডিকেট গঠনের মাধ্যমে বদলী, মাদ্রাসা ও উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠানগুলিতে কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্য, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি, সন্ত্রাস আর দুর্নীতির মাধ্যমে দেশে-বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন । সাধারণ মানুষজন এমনকি দলীয় লোকজন পর্যন্ত কেউ প্রতিবাদ করলেই তাকে জড়িয়ে দেয়া হয় সাজানো মামলা ও সাজানো জিডিতে। এসব এমপি সিন্ডিকেটের ভয়ে কেউ মুখ খুলতেও নারাজ । একজন এমপির আশির্বাদপুষ্টরা মরণনেশা ইয়াবার ব্যবসাও করছে বলে অভিযোগ উঠেছে ।
এসব মাদক কারবারি দৌরাত্ম্যে হারিয়ে যাচ্ছে সাংগঠনিক ও সৃজনশীল কর্মকান্ড। যুব সমাজ, কিশোর ও তরুণদের হাতেও মাদক কারবারিরা তুলে দিয়েছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও এখন কয়েক ডজন ইয়াবাসেবীকে নেশার আড্ডায় ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। মাদক, নেশা, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ঘিরে পারিবারিক পর্যায়েও ঝগড়াঝাঁটি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা লেগেই থাকছে। ক্ষোদ আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতা-কর্মীরাও এমপি সমর্থক ক্যাডার ও সন্ত্রাসী বাহিনীর ন্যাক্কারজনক নাজেহালের শিকার হচ্ছেন । এদের বিরোধী নেতা-কর্মী ও সাংবাদিকদের হেনস্থা করা নিয়মিত হয়ে পড়েছে ।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest