শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০২:৩০ পূর্বাহ্ন

ইয়াবা কারবারে রোহিঙ্গারা বেপরোয়া

ইয়াবা কারবারে রোহিঙ্গারা বেপরোয়া

স্টাফ রিপোর্টার :
ইয়াবা কারবারে বেপরোয়া হয়ে উঠছে রোহিঙ্গারা। ক্যাম্প বা ক্যাম্পের বাইরে মাদক কারবারসহ সন্ত্রাস, খুন, রাহাজানি সহ নানা অপকর্মে মেতে ঊঠেছে। এমনকি আগ্নোয়াস্ত্রেও কারখানা পর্যন্ত স্থাপন করে অবৈধ অস্ত্রের করবারও চালাচ্ছে।
ক্যাম্প থেকে ইয়াবা পাচার করতে গিয়ে বারবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়ছে। সর্বশেষ গতকাল বুধবার বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাড়ি সীমান্তে বিজিবি’র সঙ্গে বন্ধুকযুদ্ধে আদহাম (৩০) নামের রোহিঙ্গা ইয়াবা কারবারি নিহত হয়েছে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় তৈরী একনলা বন্দুক, দুই রাউন্ড কার্তুজ ও ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বিজিবি। গতকাল ভোরে সীমান্তের ৩৫নং পিলারের কাছে এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে৷ নিহত ব্যক্তি তুমব্রু কোনাপাড়া রোহিঙ্গা শিবিরের আবুল হাশেমের ছেলে। এ খবর নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্ণেল আলী হায়দার আজাদ আহমদ। তিনি জানান, সীমান্ত দিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান আসার খবরে কঠোর অবস্থান নেয় বিজিবি।
এসময় ১০/১২জনের একটি দল মিয়ানমার থেকে আসতে দেখে বিজিবি তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করলে ইয়াবা কারবারিরা টহল দলকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি বর্ষণ শুরু করে। জান-মাল রক্ষার্থে পাল্টা গুলি করে বিজিবির টহলদল।
তখন অজ্ঞাতনামা ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পাহাড়ি জঙ্গলের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারের ভিতরে পালিয়ে যায়। পরে টহল দল ঘটনাস্থল থেকে উক্ত রোহিঙ্গাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইয়াবা ও দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুকসহ উদ্ধার করে উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উদ্ধারকৃত ইয়াবা মূল্য প্রায় এক কোটি ২০ লাখ টাকা।
এ ব্যাপারে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন লে. কর্ণেল আলী হায়দার আজাদ আহমদ।
বর্তমানে ইয়াবার বড় যেসব চালান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হচ্ছে কিংবা ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তরে চলে যাচ্ছে তার সিংহভাগের সঙ্গে রোহিঙ্গা সিন্ডিকেট জড়িত বলে দাবি করছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ । সম্প্রতি কক্সবাজার জেলা পুলিশে ব্যাপক রদবদলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা কিছুটা ধীর হয়ে যাওয়ায় এ সুযোগ নিয়েছে রোহিঙ্গা ইয়াবা কারবারিসহ স্থানীয় কিছু বড় বড় ইয়াবার গডফাদাররা। জানাযায়, মিয়ানমার থেকে যেসব বড় বড় ইয়াবার চালান আসে তা সরাসরি রোহিঙ্গা শিবিরে ঢুকছে। ক্যাম্প থেকে সেসব মাদক রোহিঙ্গারা নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করছে।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী , করোনাকালীন কক্সবাজারে ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে ৩৫ লাখ ২১ হাজার। মামলা হয়েছে ৫৩৩টি। গ্রেপ্তার হয়েছে ৭৪৭ জন। অভিযান, গ্রেপ্তার ও মামলা তদন্তে পুলিশের মতে, সিংহভাগ চালানে ইয়াবার গডফাদার রোহিঙ্গা। বাংলাদেশিরা কেবল বহনকারী ও খুচরা ব্যবসায়ী হিসেবে কাজ করছে। পাশাপাশি ইয়াবার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো থেকেই।
সূত্রমতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক শক্তিশালী ইয়াবা চোরাচালান চক্র গড়ে ওঠেছে। পাশাপাশি ক্যাম্পের বাইরে পাহাড়ি এলাকায় বসতবাড়ি তৈরি করে রোহিঙ্গারা ইয়াবা ব্যবসার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত ডাকাতি ও অপহরণের মত জঘন্য ঘটনারও জন্ম দিচ্ছে। আর এই অপকর্মে জড়িত বেশির ভাগই পুরাতন রোহিঙ্গা। যুক্ত হয়েছে নতুন রোহিঙ্গারাও। তবে নতুন রোহিঙ্গারা আসার পর শক্তিশালী হয়ে ওঠেছে রোহিঙ্গা চোরাচালান সিন্ডিকেট। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সবশেষ মিয়ানমারে উগ্র রাখাইন ও সেনাদের নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গদের মধ্যে অনেকেই ছিল সেখানে ‘ইয়াবা ডন’। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসার পর কিছুদিন চুপচাপ থাকলেও বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে তাদের সেই সিন্ডিকেট ফের সক্রিয় হয়ে ওঠেছে। ক্যাম্পের কয়েকজন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত অন্তত তিন শতাধিক রোহিঙ্গা। তাদের সঙ্গে মিয়ানমারের রাখাইন সম্প্রদায়ের ইয়াবা গডফাদারের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। সূত্রটি বলছে, মিয়ানমার থেকে রাতের আঁধারে ইয়াবা ও মাদকের চালান সীমান্তের কাঁটাতারের পাশে বয়ে নিয়ে আসে ওই পারের সিন্ডিকেটের সদস্যরা। পরে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা সীমান্ত থেকে মাদকের চালান বয়ে নিয়ে আসে। এভাবে প্রতিনিয়ত কোটি কোটি টাকার ইয়াবা ঢুকছে উখিয়া-টেকনাফের সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। পরে ইয়াবার চালান সুযোগ বুঝে চিহ্নিত সিন্ডিকেট সদস্যরা দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে দিচ্ছে। তবে সিন্ডিকেটের গডফাদাররা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সূত্রমতে, রোহিঙ্গাদের মধ্যে আলোচিত এক রোহিঙ্গা ইয়াবা গডফাদারের নাম কুতুপালং ক্যাম্পের জিয়াবুল হক। সে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ধরা পড়লেও তার অর্বতমানে ইয়াবার সিংহাসন দখলে নিয়েছে ভগ্নিপতি ছব্বির আহমদ। জিয়াবুল রোহিঙ্গা হলেও তার কোনো কিছুর অভাব নেই। রয়েছে বিলাশবহুল বাড়ি, গাড়ি ও অহরহ সরকারি দখলকৃত জমি। তারই মতো ইয়াবার সমরাজ্য বানিয়েছে লম্বাশিয়ার রোহিঙ্গা মাস্টার মুন্না, খাইরুল আমিন ও টেকনাফ জাহালিয়া পাড়ার আবদুল হামিদসহ অনেকেই। কক্সবাজার পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান বলেন, ইয়াবা ব্যবসার ৯৫ ভাগ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে রোহিঙ্গারা। দেশিরা এখন বহন করছে আর খুচরা বিক্রি করছে। উখিয়া টেকনাফের ক্যাম্পে ঢুকে গেছে সিংহভাগ ইয়াবা ব্যবসা। সেখান থেকেই মালবাহী গাড়ি করে পাচার হচ্ছে। সম্প্রতি আটক অভিযানে তার সত্যতাও পাওয়া গেছে। পুলিশ সুপার বলেন, নতুন ও পুরাতন রোহিঙ্গারা মিলে উখিয়া- টেকনাফের সীমান্ত এলাকাসহ ঘুমধুম, তমব্রু বর্ডার, গর্জনিয়া ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি দিয়ে ইয়াবার নতুন রোড সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য, রোহিঙ্গারা
ডাকাতি , অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় এমনকি বেশ কয়েকটি খুনের ঘটনাও ঘটিয়েছে।

গত ২ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালীর রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন গহীন পাহাড়ে অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়ে অভিযান চালায় র‌্যাব-১৫। আগ্নেয়াস্ত্র ও বেশ কিছু সরঞ্জামাদিসহ দুই কারিগরকে আটক করা হয়।
উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের মধুরছড়া পাহাড়ে এ অভিযান চালানো হয় বলে জানান র‌্যাব-১৫ এর কক্সবাজার ক্যাম্পের উপ-অধিনায়ক মেজর মেহেদী হাসান।
আটকরা হলেন- মহেশখালী উপজেলার বাসিন্দা আবু মজিদ ওরফে কানা মজিদ ও রবি আলম। তারা অস্ত্র তৈরির কারিগর। র‌্যাব জানায়, আটকরা দীর্ঘদিন ধরে পালংখালীর গহীন পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান করে অস্ত্র তৈরি করে রোহিঙ্গাদের মাঝে সরবরাহ করে আসছিল।
মেজর মেহেদী হাসান বলেন, পালংখালীর রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন সংরক্ষিত গহীন পাহাড়ে কিছু অস্ত্র ব্যবসায়ী অবস্থান করছে- শুক্রবার বিকেলে এমন খবর পেয়ে র‌্যাবের একটি দল অভিযান চালায়। রাত ৮টার দিকে মধুরছড়া নামক পাহাড় থেকে দুইজনকে আটক করা হয়। তাদের অবস্থান নেওয়া একটি কুড়ে ঘর থেকে দেশীয় তৈরি দুটি বন্দুক, দুটি গুলি ও বেশ কিছু অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আটকরা মহেশখালী থেকে এসে পালংখালীর রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন গহীন পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান করে অস্ত্র তৈরি করে রোহিঙ্গাদের কাছে সরবরাহ করত। তারা দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র তৈরির কাজ চালিয়ে আসছেন।
ঘটনাস্থল উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি ছোট-বড় রোহিঙ্গা ক্যাম্প। এখানে দলগত সশস্ত্র তৎপরতা, মাদক-মানবপাচার, চাঁদাবাজি, অপহরণ বাণিজ্য ও দোকান দখল থেকে শুরু করে তুচ্ছ ঘটনায়ও ব্যবহার করা হয় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র। ক্যাম্পে নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও ক্ষমতা বিস্তারে দেশীয় নানা অস্ত্রসহ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করছে একশ্রেণির রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী। গত ১-৮ অক্টোবর পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আশ্রয়কেন্দ্র উখিয়া কুতুপালং ক্যাম্পে পাহাড়ি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের দু’পক্ষের গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত আট জন নিহত হয়। এরপর যৌথ অভিযান শুরু হলেও সংঘর্ষ থেমে নেই। এমন হত্যার ঘটনা ঘটেছে গত তিন বছরেও। তাই প্রশ্ন উঠেছে, আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের পাহাড়ি ক্যাম্পে এত অস্ত্র- গোলাবারুদ আসছে কোত্থেকে? তা-ও আবার অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র!
বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত সশস্ত্র রোহিঙ্গারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব জাহির করতে এভাবে ছবি দিয়ে প্রচারণাও চালায়।
রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে জায়গা দেওয়ার সময় তাদের সঙ্গে আনা সরঞ্জাম সরকারের পক্ষে যথাযথভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মানবিক কারণেই তখন মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গুলি থেকে তাদের বাঁচানোর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের আশ্রয় দিয়েছে সরকার। তবে তারাই এখন হয়ে উঠেছে সরকারের মাথাব্যথার কারণ। একে তো তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে নানা কূটনৈতিক চেষ্টা চালিয়েও এখনও সফলতা মেলেনি পাশাপাশি তারা নষ্ট করছে উখিয়া-টেকনাফের শান্তিময় পরিবেশ। গোলাগুলি ও হামলায় প্রায় মাসেই রক্তাক্ত হয়ে উঠছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর পরিবেশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১৭ সালের আগস্টে মানবেতর পরিস্থিতির মুখে পড়া রোহিঙ্গাদের মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে জায়গা দেওয়ার সময় সরকারের পক্ষে তাদের সঙ্গে আনা ব্যাগপত্রের সব মালামাল পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এই সুযোগে সিংহভাগ সাধারণ রোহিঙ্গার সঙ্গে সে সময়ে কিছু অস্ত্রবাজও ঢুকে পড়ে। এর প্রমাণ পাওয়া যায়, প্রথম বছর যেতে না যেতেই এসব ক্যাম্পে সশস্ত্র তৎপরতা শুরু করতে দেখা যায় অনেককেই। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের কাছে পরিষ্কার, এসব রোহিঙ্গা মূলত ডাকাতি এবং মানব ও মানবপাচার কারবারের জন্যই এমন সশস্ত্র পেশা বেছে নিয়েছে। তবে ক্যাম্প ছেড়ে এসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডেও মাঝে মাঝে ডাকাতি করায় তারা এখন দেশের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। ফলে শুরু থেকেই এদের দমন করতে তৎপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে তাদের পাহারার ফাঁক গলিয়ে নানাভাবে উখিয়া- টেকনাফের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে এখনও তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে সশস্ত্র রোহিঙ্গারা। ফলে তাদের অস্ত্রগুলোর উৎস কি সেটা যাচাই এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তাছাড়া রোহিঙ্গা শিবিরে উত্তেজনা এবং সংঘর্ষ জিইয়ে রেখে পরিবেশ ঘোলাটে করতে মিয়ানমারের কোনো গোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের কাছে গোপনে অস্ত্র সরবরাহ করছে কিনা সেটাও যাচাই জরুরি।
গত ৬ অক্টোবর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চারজন নিহতের ঘটনায় এপিবিএন এর হাতে আটকদের কয়েকজন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারত ও মিয়ানমারে সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত এখনো অরক্ষিত। এসব জায়গা দিয়েই ওই দুটি দেশ থেকে রোহিঙ্গার জন্য অস্ত্র আসে। তারপর বিভিন্ন কৌশলে সেগুলো পৌঁছে যায় ক্যাম্পে। তবে এসব অস্ত্রের প্রধান উৎস মিয়ানমার। এছাড়া কিছু স্থানীয় দুর্বৃত্তের সহায়তা নিয়েও পাহাড়ি এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের কারখানা বানিয়ে তারা সংগ্রহ করছে আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়াও নানা ধরনের দেশীয় অস্ত্র।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সর্বশেষ ১২ অক্টোবর ভোরে টেকনাফের শামলাপুরের জলসীমানায় ঢুকে জেলেদের অপহরণের চেষ্টাকালে মিয়ানমারের ডাকাতসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছে চারটি অস্ত্র পাওয়া যায়। এছাড়া চলতি মাসের ১-১২ অক্টোবর পর্যন্ত কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ক্যাম্পসহ পাহাড়ি এলাকা থেকে পিস্তলসহ ২১টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র এবং অর্ধশতাধিক গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ সময় রোহিঙ্গাসহ ৪০ জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই থানায় সাতটি মামলা করা হয়েছে। কিন্তু এ বছরের গেলো নয় মাসে এসব এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল ৯০টি। এই

সীমান্ত ও ক্যাম্প নিয়ে কাজ করেন উচ্চ পর্যায়ের এমন একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে মাদক চালানের সঙ্গে অস্ত্র আসছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। মাদকের মূল হোতারা মাদক পাচারকালে ব্যবহারের জন্য তাদের বহনকারীদের হাতে তুলে দিচ্ছে অস্ত্রশস্ত্র। আবার অনেকে মাদক বহনকারী হিসেবে ব্যবহার করছে রোহিঙ্গাদের। সেই সুবাদে ক্যাম্পে তারা যেকোনো কর্মকাণ্ডে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করছে। এতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।’


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest