রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৬:১২ অপরাহ্ন

আমাদের ফোন করে বলে বাসায় ফাইল নিয়ে আসেন!

আমাদের ফোন করে বলে বাসায় ফাইল নিয়ে আসেন!

বিশেষ সংবাদদাতা : নড়াইলে লোহাগড়া উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসএমএ করিম দীর্ঘদিন যাবৎ সরকারি নিয়ম অমান্য করে দপ্তরে অনুপস্থিত থাকছেন।

রোববার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে গেলে অফিস কার্যসহকারী হারুনার রশিদের ও মনিরুজ্জামানের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, স্যার ঠিকমত অফিসে আসেনা এবং আমাদের কিছু বলেন না।

হারুনার রশিদের কাছে জানতে চায় যে, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতা জনাব করিম সাহেব অফিস করেন না। তাহলে অফিসের কাজ আপনারা কিভাবে সম্পাদন করেন। তখন তিনি সাংবাদিক দের বলেন আমাদের ফোন করে বলেন ফাইল বাসায় নিয়ে আসেন। তখন আমরা প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তার নির্দেশ মোতাবেক ফাইল নিয়ে তার বাসা থেকে স্বাক্ষর করে নিয়ে আসি।

একই অফিসের আয়া তাজেদা বেগম বলেন, স্যার প্রতিদিন অফিসে আসেন না। হঠাৎ দুই এক দিন অফিসে আসেন।আজ আমাকে বলেছে অফিসে আসবে কিন্তু ১১ টা বাজে এখনো আসেন নাই।

জেলা ত্রাণ ও পূর্নবাসন কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান তাকে কার্য দিবসের তালিকা প্রকাশ করেন। যাহার স্মারক নম্বর ৪৯৭/২৭/০৮/২০২০ মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসএমএ করিমকে

 

দাপ্তরিক ভাবে জানিয়েছেন। সেখানে বর্ণনায় আছে প্রতি সপ্তাহে রোববার ও বুধবার কালিয়া উপজেলা, সোম ও বৃস্পতিবার সদর উপজেলা (নড়াইল), মঙ্গলবার ও ছুটির দিন লোহাগড়া উপজেলায় কর্মরত থাকবেন।

কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসএমএ করিম নিয়মনীতি সরকারি দপ্তরে অনুপস্থিত থাকছেন যাহা বিধি সম্মত নহে।

কালিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (নড়াইল) এর অফিস কার্যসহকারী মো. ওলিয়ার রহমান জানান, দুই মাসের মধ্যে প্রকল্প কর্মকর্তা এস,এম,এ করিম তিন চারদিন অফিস করেছেন এবং কোন দাপ্তরিক কাজের প্রয়োজন হলে ওনাকে ফোন করলে ফাইল লোহাগড়া উপজেলায় আনতে বলেন।

নড়াইল সদরের প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস এর কার্যসহকারী জিয়াউর রহমান জানান, দায়িত্ব পেয়ে স্যার আমাদের অফিসে দুই এক দিন অফিস করেছে। নড়াইলে তিনিটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে, তিনি কোন দপ্তরে উপস্থিত ছিলেন না।

লোহাগড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসএম এ করিমের সংঙ্গে মুঠো ফোনে বার বার যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের ফোনিটি রিসিভ করেন নাই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোসলিনা পারভীনের কাছে প্রকল্প কর্মকর্তা করিমের অনুপস্থিতির ব্যপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন আমি সদ্য যোগদান করেছি। আমার জানামতে তিনি ঠিকমত অফিস করেনা।

আমি স্থানীয় সূত্রে আরো জানাতে পারি অফিস কার্যসহকারীদের সঙ্গে প্রকল্প কর্মকর্তার সম্পর্কে চরম অবনতির কারণে এসব ঘটেছে।

 

আরো জানান, নিজ দায়িত্ব ছাড়া ও দুইটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করেন। আমার যোগদানের পূর্বে অফিস কার্যসহকারী ও প্রকল্প কর্মকর্তা নামে অনিয়ম দুর্নীতির বিভাগীয় ও দুদকের তদন্ত চলছে। বিস্তারিত বলতে পারবেন জেলা ত্রাণ ও পূর্নবাসন কর্মকর্তা (নড়াইল) মোঃ মিজানুর রহমান।

জেলা ত্রাণ ও পূর্নবাসন কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমানের সঙ্গে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি বলেন লোহাগড়া উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এস,এম,এ করিম সরকারি নিয়মনীতি মোতাবেক অফিস করেন না এবং অফিসে অনুপস্থিত থাকে আমি তা অবগত আছি। এস, এম, এ করিমের

 

দুর্নীতি ও অনিয়ম পূর্বে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রকল্প কর্মকর্তা এস, এম, এ করিমের নামে বিভাগীয় দূর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়নের কারণে বিভাগীয় ও দুদকের তদন্ত চলছে। এডিসি জেনারেল জনাম মোঃ ইয়ারুল ইসলামকে আহব্বায়ক করে দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, প্রকল্প কর্মকর্তা এসএম, এ করিমকে জিইপি পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে চিঠি প্রেরণ করা হলে তিনি তা গ্রহন না করে ফেরত পাঠান এবং তার ইমেইল নম্বারে তাকে চিঠিটি প্রেরণ করলে তিনি তা মূল্যায়ন করেন নি।

গত ০৭/১০/২০২০ তারিখে নড়াইল জেলা প্রসাশকের কার্যলয়ের শুনানির দিন ধায্য থাকলেও তিনি অনুপস্থিত থাকে। পরবর্তীতে আগামী ১২/১০/২০২০ইং তারিখে পূনোরায় দিন ধায্য করা হয়েছে। যদি উপস্থিতি না হয় তাহলে সে মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করা হইবে।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest